বিএনপির সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণেই বাংলাদেশ গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন অকুতোভয় গণতান্ত্রিক নেতা। তিনি পুরো জীবন গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসর্গ করেছেন। তার আপসহীন নেতৃত্ব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি বারবার বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে এনেছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা, দলকে আগলে রাখা এবং নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া বিএনপিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক গণদল হিসেবে যে অবস্থান তৈরি করেছে, এর অন্যতম প্রধান কারিগর খালেদা জিয়া।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, দেশের মানুষ ও গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার দৃঢ় নেতৃত্বে বিএনপি বিভিন্ন সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠিত থেকেছে। তার আদর্শ ও রাজনৈতিক প্রেরণা নেতাকর্মীদের সবসময় পথ দেখাবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। গুম, খুন, গ্রেফতার ও নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
আমান বলেন, আওয়ামী লীগ আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে পারবে না। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার জায়গা এই বাংলার মাটিতে আর হবে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ মাদক কারবার, চাঁদাবাজি কিংবা ভূমিদখলের সঙ্গে জড়িত হলে তাকে কোনোভাবেই দলে স্থান দেওয়া হবে না। নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতনও বরদাশত করা হবে না। আরও পড়ুনআরও পড়ুনগণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অকুতোভয় বীর সিপাহসালার: ড. খন্দকার মারুফ
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল হক মনির, যুবদলের আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান রিপন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালী উল্লাহ সেলিম, শাক্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মহসীন মন্টু, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।