উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- জাদুঘরে প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজারের বেশি দর্শনার্থী আসছেন। ছুটির দিনগুলোতে এ সংখ্যা সহজেই ছয় হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, কোনো কোনো দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার জাদুঘরে দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জাদুঘরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, শনিবার প্রায় ৭ হাজার ৮৬০ জন দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। এর আগের দিন শুক্রবার দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজারের কিছু বেশি।
জাদুঘরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, উদ্বোধনের পর কোনো দিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা ছয় হাজারের নিচে নামেনি। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর চাপ আরও বেড়ে যায়। তবে টিকিট ছাড়া প্রবেশের কারণে প্রকৃত দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় টিকিট সংগ্রহের শেষ সময়ের আগেও কাউন্টারে ছিল ভিড়। পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আসা দর্শনার্থীদের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। কেউ প্রদর্শনী দেখছেন, কেউ বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ আয়নাঘর, কবর, যোদ্ধা ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।
এর আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাদুঘরের বিভিন্ন অংশে ছিল মানুষের আনাগোনা।
সাভার কলেজ থেকে আগত শিক্ষার্থী রফিক মোল্লা বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। সময় নিয়ে পুরো এলাকা ঘুরেছি। প্রতিটি মোটিফ ও নির্মাণ দেখেছি। সব মিলে অসাধারণ একটি কাজ হয়েছে। তবে মন্দ লাগে এই ভাবে যে অনেক মানুষ হারানোর গল্প এখানে লুকায়িত।
ছালমা নামে এক তরুণী বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। টিকিটের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ভেতরেও অনেক মানুষ। বিশেষ করে আয়নাঘর ও যোদ্ধা ভাস্কর্যের সামনে ছবি তোলার জন্য ভিড় বেশি। মনে হয়েছে এ ভিড় প্রত্যাশিত।
আরেক দর্শনার্থীর ভাষ্য, এখানে শুধু তরুণরাই আসছেন না- পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অনেকে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ স্থাপনাগুলো দেখছেন। বোঝা যাচ্ছে, জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে মানুষের আগ্রহ রয়েছে।
উদ্বোধনের দশম দিনেও সাপ্তাহিক ছুটিতে দর্শনার্থীদের এমন উপস্থিতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘিরে মানুষের আগ্রহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা।
এর আগে গত ৫ আগস্ট এ জাদুঘর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।