দেশের মোবাইল আর্থিক সেবা খাতের অন্যতম জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায়ীদের ওপর সেভি বা ডিপিএস খোলার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপ নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, গ্রাহকদের নিয়মিত লেনদেনের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয় বা ডিপিএস খোলার লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট টেকজুম টিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কয়েকজন এজেন্টের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তাঁদের দাবি, মাসিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য নিজস্ব অর্থ দিয়ে সঞ্চয় বা ডিপিএস খোলার চাপ দেওয়া হয়। কোনো কোনো এজেন্টের অভিযোগ, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।অনেকজন ব্যবসায়ী চন্দনাইশের এই ধরনের শিকার হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্য কেন এটি উদ্বেগের বিষয়?
একজন বিকাশ এজেন্টকে দোকানের নগদ টাকা, গ্রাহকের লেনদেন, দোকানভাড়া, কর্মচারীর খরচ এবং দৈনন্দিন ব্যবসার মূলধন সামলাতে হয়। এর মধ্যে অতিরিক্ত সঞ্চয় বা ডিপিএসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপ থাকলে ব্যবসায়ের মূলধন আটকে যাওয়া এবং আর্থিক পরিকল্পনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, গ্রাহকের প্রকৃত চাহিদা ও আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে সঞ্চয়সেবা দেওয়া উচিত। শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য এজেন্টকে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নামে সঞ্চয় খুলতে উৎসাহিত করা হলে তা ব্যবসায়িক চাপ ও অসন্তোষের কারণ হতে পারে।
যদি কোনো এজেন্টকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের অর্থ বিনিয়োগ করতে বাধ্য করা হয়, অথবা লক্ষ্য পূরণ না করলে অযৌক্তিকভাবে ব্যবসায়িক সুবিধা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুতর ব্যবসায়িক চাপ ও সম্ভাব্য হয়রানির প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করার হয়।
ব্যবসায়ীদের অনিচ্ছুক চাপ, পারিবারিক, সমাজের উপর প্রভাব ফেলে, এতে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয় এমনকি মানসিক সমস্যাও দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাই।