ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা খুবই কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার (খামেনি) উপস্থিতি দেশের জন্য একটি ‘বড় শক্তির উৎস’ বলেও জানান তিনি। বুধবার (৫ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা যদি সর্বোচ্চ নেতার সামনে খোলামেলাভাবে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন, তাহলে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয়। এ সময় তিনি মোজতবা খামেনিকে ‘অসাধারণ ব্যক্তিত্ব’ বলে উল্লেখ করেন। তার নৈতিকতা, বিনয় ও যুক্তিবোধের প্রশংসাও করেন। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করে বলেন, কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নিয়ে সর্বোচ্চ নেতার বার্তাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনযুদ্ধ নয়, ইরানের সঙ্গে চুক্তিই চাই: ট্রাম্প গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করা। শুরুতে কিছু সংরক্ষণ থাকলেও পরে মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে এই সমঝোতার প্রতি সমর্থন জানান। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটির প্রতিপক্ষ নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি এবং বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে কঠিন সময়। চলতি বছরের ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় তার বাবা আলী খামেনি নিহত হন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়। ইরান পালটা জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে, যার লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।