উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে এবার বাজালিয়ায় উপজেলা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদ। তবে প্রস্তাবিত স্থান নিয়ে উত্তর সাতকানিয়ার ছয় ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খাগরিয়া ও কালিয়াইশের বাসিন্দারা যাতায়াতের দূরত্ব, ব্যয় এবং প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।গত ১০ নভেম্বর (শনিবার) বাজালিয়া নাজমূল উলূম মাদরাসা হেফজখানা ও এতিমখানার বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য বলেন, ‘গত পরশুদিন আমরা বাজালিয়া রোডে ৭০ বিঘা জায়গা পেয়েছি। এখানে উপজেলাও হবে। ছয় ইউনিয়নের মানুষকে বাজালিয়ায় এসে রাষ্ট্রীয় সেবাগুলো নিতে হবে।’তাঁর এ বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। খাগরিয়া ও কালিয়াইশের অনেক বাসিন্দা প্রস্তাবিত স্থানটির দূরত্ব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, খাগরিয়া থেকে বাজালিয়ায় যেতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রায় ৬০০-৭০০ টাকা এবং কালিয়াইশ থেকে ৪০০-৫০০ টাকা ভাড়া গুনতে হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা নিতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হবে।তবে বাজালিয়া পূর্ব সাতকানিয়ার বান্দরবান জেলা সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় প্রস্তাবিত উপজেলা ও থানার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগামী ১৯ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদের আগমন এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছে। তবে এ তথ্যের কোনো সরকারি নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।খাগরিয়ার বাসিন্দা ও সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী বলেন, উপজেলা বা থানার নাম নিয়ে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই। তাঁদের মূল দাবি, মানুষের সুবিধা বিবেচনায় উপজেলা কার্যালয় মধ্যবর্তী কোনো স্থানে করা হোক। দোহাজারী ও ধোপাছড়িকে কেন্দ্র করে এমন একটি স্থান নির্ধারণ করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।তিনি বলেন, ছয় ইউনিয়ন নিয়ে বাজালিয়ায় উপজেলা প্রতিষ্ঠা করা হলে খাগরিয়াবাসীর জন্য ভোগান্তি বাড়বে। তাঁরা এতদিন যে উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছেন, সেটি কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য নয়; বরং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য। জমি কেনাবেচা বা ব্যবসায়িক স্বার্থের পরিবর্তে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কালিয়াইশের বাসিন্দা ও উত্তর সাতকানিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আপিল উদ্দীন আহমেদ বলেন, বাজালিয়ায় উপজেলা স্থাপনের পক্ষে তাঁরা যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না। ২০০০ সাল থেকে প্রস্তাবিত পূর্বনির্ধারিত স্থান হিসেবে সাঙ্গু ভ্যালি এলাকায় উপজেলা এবং মৌলভীর দোকানে থানা স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।তাঁর মতে, সাঙ্গু ভ্যালি ও মৌলভীর দোকান তুলনামূলক মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় ছয় বা আট ইউনিয়নের মানুষের জন্য প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ সহজ হবে। বাজালিয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাঁরা সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ করবেন বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থের কাছে আগামী ১৯ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন এবং ছয় ইউনিয়ন নিয়ে উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা ঘোষণার প্রচার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য বা নির্দেশনা তাঁদের কাছে আসেনি।এটি গুজব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হতে পারে। এ ধরনের কোনো তথ্য আমার চোখে পড়েনি। বিষয়টি আমি দেখব।’অন্যদিকে বাজালিয়া এলাকায় ৭০ বিঘা জমি পাওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সত্যতা ও প্রশাসনিক অগ্রগতি জানতে চাইলে ইউএনও সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো করে কাজ করছি।’
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।