ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বে যে নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় যুবসমাজকে উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় যুবসমাজই সভ্যতার সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে যে নতুন ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে, তা সভ্যতার জন্য একদিকে যেমন আশীর্বাদ, অন্যদিকে তেমনি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সভ্যতার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে যুবকদের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। ফলে এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের উপযুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি দিয়ে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার গভীরতা এতটাই বেশি যে আগামীকাল বা পরশু আমরা কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হব, তা অনেকাংশেই অনুমান করা কঠিন। তাই পুরোনো জ্ঞান ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন জ্ঞান, নতুন দক্ষতা ও নতুন সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, তরুণদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; তাদের ডিজিটাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, নতুন ইকোসিস্টেমের জন্য নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও জ্ঞানব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য তরুণদের উপযুক্ত জ্ঞান ও দক্ষতা দেয়া এখন আর শুধু একটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নয়; বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার জন্য এটি একটি অনিবার্য বিনিয়োগ। সম্প্রচারমন্ত্রীর কথায়, যুবসমাজ শুধু একটি দেশের সম্পদ নয়; তারা সমগ্র মানবসভ্যতার সম্পদ। তারা পুরোনো প্রজন্মের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ও জ্ঞানসম্পন্ন। তাই তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে নয়, বর্তমানের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুবসমাজকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। খেলাধুলা, সৃজনশীলতা, যুবসমাজের বিকাশ এবং পরিবর্তন ও জলবায়ু-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের এ অবস্থান প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুবসমাজকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তারা শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক সভ্যতার অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুবসমাজকে কেন্দ্র করে আরো ব্যাপক কর্মসূচি, সচেতনতা সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যুবসমাজকে প্রস্তুত করা মানে শুধু তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তুত করা। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মাহবুব-উল-আলম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এসএম জোবায়েদ হোসেন অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: মোতাহার হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : ইউএনবি

বক্তব্য রাখছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন