চট্টগ্রামের চন্দনাইশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতুর পাশে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মো. হাশেম (৩৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাছবাড়ীয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাশেম চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশারপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মহাসড়কের পাশে গুরুতর আহত অবস্থায় হাশেমকে দেখতে পান পথচারী মাওলানা মো. জুনাইদ। পরে তিনি তাকে উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পারিবারিক জীবন নিয়েও নানা তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর পাঁচপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী আয়েশা আক্তার ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তবে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পরিবার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিবাহবিচ্ছেদের আগে ও পরে পারিবারিক সম্পদ, সন্তানদের দায়িত্ব এবং আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় এক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর ভূমিকা ছিল কি না, কাবিনের টাকা পরিশোধ নিয়ে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না এবং এ ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাশেমের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সঙ্গে ওই সম্ভাব্য প্রার্থীর বলয় বা প্রভাবের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাশেমের মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, মাদকসংক্রান্ত বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি। বিশেষ করে ঘটনার আগে ও পরে তার সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সংঘর্ষ হয়েছিল কি না এবং তাকে কে বা কারা আহত করেছে, সেসব বিষয় অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহতের ভাই মোস্তাক এবং আয়েশার ভাই রাজার স্ত্রী এসব পারিবারিক বিষয় সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের বক্তব্যের বিস্তারিত ও অন্যান্য তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রূপক কর্মকার জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার জানা নেই।
এখন প্রশ্ন—হাশেমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? এটি কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো ঘটনার পরিণতি? তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।