ঢাকা    শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

স্বর্ণ খাত স্বচ্ছ করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার


প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

স্বর্ণ খাত স্বচ্ছ করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

বৈধ স্বর্ণ আমদানি বৃদ্ধি, চোরাচালান রোধ, রাজস্ব বাড়ানো এবং স্বর্ণালংকার রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে কড়া নজরদারিতে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আগামী রোববারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও অংশীজনকে খসড়ার বিষয়ে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও স্বর্ণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে স্বর্ণ খাত এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। ফলে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। সরকার এখন স্বর্ণ ব্যবসাকে অন্যান্য শিল্পের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এনে স্বীকৃত শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

খসড়া নীতিমালায় বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপ একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সহজেই স্বর্ণের উৎস, মজুদ ও লেনদেনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

সরকারের লক্ষ্য স্বর্ণ খাতকে দেশের অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতের মতো পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাতটি আনুষ্ঠানিক হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈধ আমদানি, রাজস্ব আদায় এবং স্বর্ণের মজুত ও লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। ব্যবসায়ীরা নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক-কর পরিশোধ করবেন এবং সরকারও ব্যবসার অনুকূল বিধিবিধান নিশ্চিত করবে।

স্বর্ণের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে মূল্য সংরক্ষণ করা। একইভাবে স্বর্ণও আন্তর্জাতিকভাবে মূল্য সংরক্ষণের একটি স্বীকৃত মাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ সংরক্ষণ করে।

তিনি বলেন, দেশে ৪ বিলিয়ন বা ১০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ বৈধভাবে আমদানি হওয়ার পর সেটি যদি দেশের মধ্যেই থাকে এবং অবৈধভাবে বাইরে চলে না যায়, তাহলে এর মাধ্যমে মূলত দেশের ভেতরে মূল্য সংরক্ষিত হচ্ছে।

চোরাচালান নিরুৎসাহিত করতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যতটা সম্ভব সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে অবৈধ আমদানি-রপ্তানি ও চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুল্ক ও কর কাঠামো নির্ধারণে দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নীতিমালায় শুধু স্বর্ণ আমদানির বিষয় নয়, দেশে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার তৈরি ও রপ্তানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ন্যূনতম ও যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ তৈরি করা গেলে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। একটি যুগোপযোগী ও সুসংগঠিত নীতিমালা কার্যকর হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভোক্তারা আরও ন্যায্য মূল্যে স্বর্ণ কেনার সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ভারতসহ বিশ্বের তিন থেকে চারটি প্রধান স্বর্ণালংকার রপ্তানিকারক দেশের আমদানি পদ্ধতি, শুল্ক কাঠামো, সংরক্ষণব্যবস্থা ও রপ্তানি প্রণোদনা পর্যালোচনা করবে সরকার। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে লিখিত সুপারিশ দিতে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় একটি স্বচ্ছ, টেকসই ও বাস্তবসম্মত নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলা। অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার আগে আরও পরামর্শমূলক বৈঠক করা হবে।

দৈনিক পটিয়া

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


স্বর্ণ খাত স্বচ্ছ করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বৈধ স্বর্ণ আমদানি বৃদ্ধি, চোরাচালান রোধ, রাজস্ব বাড়ানো এবং স্বর্ণালংকার রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন নীতিমালায় স্বর্ণ আমদানি থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে কড়া নজরদারিতে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ পর্যালোচনা বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আগামী রোববারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও অংশীজনকে খসড়ার বিষয়ে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও স্বর্ণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে স্বর্ণ খাত এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। ফলে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। সরকার এখন স্বর্ণ ব্যবসাকে অন্যান্য শিল্পের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এনে স্বীকৃত শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

খসড়া নীতিমালায় বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপ একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সহজেই স্বর্ণের উৎস, মজুদ ও লেনদেনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

সরকারের লক্ষ্য স্বর্ণ খাতকে দেশের অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতের মতো পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাতটি আনুষ্ঠানিক হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈধ আমদানি, রাজস্ব আদায় এবং স্বর্ণের মজুত ও লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। ব্যবসায়ীরা নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক-কর পরিশোধ করবেন এবং সরকারও ব্যবসার অনুকূল বিধিবিধান নিশ্চিত করবে।

স্বর্ণের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে মূল্য সংরক্ষণ করা। একইভাবে স্বর্ণও আন্তর্জাতিকভাবে মূল্য সংরক্ষণের একটি স্বীকৃত মাধ্যম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ সংরক্ষণ করে।

তিনি বলেন, দেশে ৪ বিলিয়ন বা ১০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ বৈধভাবে আমদানি হওয়ার পর সেটি যদি দেশের মধ্যেই থাকে এবং অবৈধভাবে বাইরে চলে না যায়, তাহলে এর মাধ্যমে মূলত দেশের ভেতরে মূল্য সংরক্ষিত হচ্ছে।

চোরাচালান নিরুৎসাহিত করতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যতটা সম্ভব সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে অবৈধ আমদানি-রপ্তানি ও চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুল্ক ও কর কাঠামো নির্ধারণে দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রের বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নীতিমালায় শুধু স্বর্ণ আমদানির বিষয় নয়, দেশে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার তৈরি ও রপ্তানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ন্যূনতম ও যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ তৈরি করা গেলে স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পণ্য তৈরি করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। একটি যুগোপযোগী ও সুসংগঠিত নীতিমালা কার্যকর হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভোক্তারা আরও ন্যায্য মূল্যে স্বর্ণ কেনার সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে ভারতসহ বিশ্বের তিন থেকে চারটি প্রধান স্বর্ণালংকার রপ্তানিকারক দেশের আমদানি পদ্ধতি, শুল্ক কাঠামো, সংরক্ষণব্যবস্থা ও রপ্তানি প্রণোদনা পর্যালোচনা করবে সরকার। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে লিখিত সুপারিশ দিতে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি করা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় একটি স্বচ্ছ, টেকসই ও বাস্তবসম্মত নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলা। অংশীজনদের মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজন হলে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার আগে আরও পরামর্শমূলক বৈঠক করা হবে।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
স্বর্ণ খাত স্বচ্ছ করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
0:00 0:00
1.0x