দেশে ফিরেছেন ঢালিউড কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। গত বছরের এপ্রিলে চিকিৎসার উদ্দেশে লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়। জটিলতা ও ঝুঁকির কারণে সেই সময় টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে নিয়মিত চলছিল কেমোথেরাপি। ১৫ মাস পর সোমবার (৩ আগস্ট) কয়েক দিনের জন্য দেশে ফেরেন এ জ্যোৎস্নাখ্যাত অভিনেতা।
এ খবর শোনার পরদিনই তাকে দেখতে গিয়েছিলেন আরেক ঢালিউড কিংবদন্তি অভিনেতা আলমগীর। কাঞ্চনের গুলশানের বাসায় গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো কথা বলেছেন তারা। বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কাঞ্চন-ঘনিষ্ঠজন 'নিরাপদ সড়ক চাই'-এর ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক লিটন এরশাদ।
তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের বাইরেও অভিনেতা আলমগীর ও ইলিয়াস কাঞ্চনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সুসম্পর্ক রয়েছে। আড্ডায় তারা পরষ্পরের স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন। একজন আরেকজনের খোঁজ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তবে অসুস্থতার কারণে অতীতের অনেক কিছুই ভুলে গেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তাকে কিছু স্মৃতি মনে করানোর চেষ্টা করেছেন আলমগীর। দুই কিংবদন্তির এ মুহূর্ত উপস্থিতি অন্যরাও মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশের ইতিহাসের সর্বাধিক ব্যবসাসফল রেকর্ড সৃষ্টিকারী ‘বেদের মেয়ে জোছনা’সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল ও নন্দিত সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকও।
দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নিয়েছেন এ কিংবদন্তি অভিনেতা। ঘরে ফেরার আকুলতায় পরিবার তাকে কয়েক দিনের জন্য দেশে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই ফেরা বেশি দিনের জন্য নয় বলে জানিয়েছেন লিটন এরশাদ। আগামী ১৪ আগস্টের আগেই তাকে আবার লন্ডনে ফিরতে হবে। কেননা ১৫ আগস্ট সেখানে তাকে পুনরায় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হবে বলে জানান লিটন এরশাদ।
এর আগে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে দেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন নন্দিত এ নায়ক। স্বদেশযাত্রায় তার সঙ্গে ছায়ার মতো সার্বক্ষণিক পাশে আছেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। দেশে ফিরে বিমানবন্দরে উপস্থিত স্বজন ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আলহামদুল্লিলাহ ভালো আছি, শরীর ভালো আছে। সবার উদ্দেশ্যে যেটি বলার সেটি দোয়া চাই। এবং আমার দোয়া সবার জন্য রইল।’