ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: মেয়র শাহাদাত


প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: মেয়র শাহাদাত
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: মেয়র শাহাদাত

পাহাড়-সমুদ্র-নদীর অপার সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা

পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও উপত্যকার অনন্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন হাব ও ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে চট্টগ্রামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে এখনো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নগরীর হোটেল পেনিনসুলার ডালিয়া হলে দি বাংলাদেশ মনিটর আয়োজিত ১৭তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি বাংলাদেশ মনিটরের চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুল আলম।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামের মূল পরিচয় শুধু বন্দরনগরী বা বাণিজ্যিক নগরী নয়; চট্টগ্রামের আরেকটি বড় পরিচয় হলো পর্যটনের শহর। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে সমুদ্র, নদী ও উপত্যকা—প্রকৃতি যেন চট্টগ্রামকে পর্যটনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে আমাদের উন্মোচিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমেই যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও পর্যটন অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

মেয়র বলেন, “কানেক্টিং ডেস্টিনেশন, ক্রিয়েটিং অপরচুনিটি”—এই প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। একটি পর্যটন গন্তব্যকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করতে হলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা অপরিহার্য। চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।”

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, সীতাকুণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত পর্যটন রুট তৈরি করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।

চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য ও পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মেয়র বলেন, বিমানবন্দর সড়কে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন, বিভিন্ন এলাকায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ, খালের পাড় উন্নয়ন এবং সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এটি শুধু যোগাযোগের জন্য নয়, পর্যটন ও বিনোদনেরও অংশ। আমরা চাই, দেশি-বিদেশি পর্যটকরা চট্টগ্রামে এসে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীর অভিজ্ঞতা লাভ করুক।”

নগরীর বিভিন্ন খালকে পর্যটন ও বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। তিনি বলেন, খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নতুন বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব। ইতোমধ্যে কয়েকটি খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামকে ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি ট্যুরিজম হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপারে সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, সবুজায়ন এবং পাখির অভয়ারণ্যসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম শুধু একটি শহর নয়; এটি বাংলাদেশের পর্যটনের প্রবেশদ্বার হতে পারে। এখান থেকে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে সহজে যাওয়া যায়। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারলে চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।”

পর্যটন বিকাশে নগরীর সৌন্দর্য ও নাগরিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন, নিরাপদ চলাচল, হাঁটার জায়গা এবং বিনোদনকেন্দ্র—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ছোট-বড় বিভিন্ন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি সবুজ খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগও পর্যটনবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ার পরিকল্পনার অংশ। ইতোমধ্যে ১১টি মাঠ প্রস্তুতের পথে রয়েছে। জাম্বুরি মাঠ, ফেরোজ শাহ মাঠ, বহুরূপী মাঠ, মহসিন কলেজ মাঠ ও চট্টগ্রাম কলেজ মাঠসহ বিভিন্ন মাঠের উন্নয়নকাজ চলছে।

মেয়র বলেন, “একটি পর্যটন নগরী শুধু সুন্দর ভবন দিয়ে তৈরি হয় না। সেখানে সবুজ মাঠ, পার্ক, হাঁটার জায়গা, বিনোদনকেন্দ্র এবং মানুষের স্বস্তির পরিবেশ থাকতে হয়। আমরা সেই চট্টগ্রামই গড়ে তুলতে চাই।”

চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। সেখানে উন্মুক্ত স্থান, ওয়াকওয়ে, লাইব্রেরি, কফিশপ ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য এটি একটি নতুন আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত হিসেবে দেখলে হবে না; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় সম্ভাবনাময় খাত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।

তবে পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন মেয়র শাহাদাত।

তিনি বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশন কাজ করলেই হবে না। আমাদের প্রত্যেক নাগরিককে শহরটাকে ভালোবাসতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে, পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এই শহর আমাদের পূর্বপুরুষদের, আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের। তাই চট্টগ্রামকে সুন্দর রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়বে। সম্মিলিত উদ্যোগে চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটন নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, “আমি নয়, আমরা সবাই মিলে চট্টগ্রামকে পর্যটন নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। চট্টগ্রামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।

দৈনিক পটিয়া

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: মেয়র শাহাদাত

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাহাড়-সমুদ্র-নদীর অপার সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা

পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও উপত্যকার অনন্য প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন হাব ও ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে চট্টগ্রামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে এখনো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নগরীর হোটেল পেনিনসুলার ডালিয়া হলে দি বাংলাদেশ মনিটর আয়োজিত ১৭তম আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দি বাংলাদেশ মনিটরের চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুল আলম।


মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামের মূল পরিচয় শুধু বন্দরনগরী বা বাণিজ্যিক নগরী নয়; চট্টগ্রামের আরেকটি বড় পরিচয় হলো পর্যটনের শহর। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে সমুদ্র, নদী ও উপত্যকা—প্রকৃতি যেন চট্টগ্রামকে পর্যটনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে আমাদের উন্মোচিত করতে হবে।”


তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমেই যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও পর্যটন অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা জরুরি।


মেয়র বলেন, “কানেক্টিং ডেস্টিনেশন, ক্রিয়েটিং অপরচুনিটি”—এই প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। একটি পর্যটন গন্তব্যকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করতে হলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা অপরিহার্য। চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।”


তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, সীতাকুণ্ডসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। ফলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত পর্যটন রুট তৈরি করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।


চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য ও পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মেয়র বলেন, বিমানবন্দর সড়কে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন, বিভিন্ন এলাকায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ, খালের পাড় উন্নয়ন এবং সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।


তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এটি শুধু যোগাযোগের জন্য নয়, পর্যটন ও বিনোদনেরও অংশ। আমরা চাই, দেশি-বিদেশি পর্যটকরা চট্টগ্রামে এসে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরীর অভিজ্ঞতা লাভ করুক।”


নগরীর বিভিন্ন খালকে পর্যটন ও বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। তিনি বলেন, খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নতুন বিনোদনকেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব। ইতোমধ্যে কয়েকটি খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে।


চট্টগ্রামকে ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি ট্যুরিজম হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কর্ণফুলী নদীর ওপারে সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ, সবুজায়ন এবং পাখির অভয়ারণ্যসহ পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম শুধু একটি শহর নয়; এটি বাংলাদেশের পর্যটনের প্রবেশদ্বার হতে পারে। এখান থেকে কক্সবাজার, বান্দরবানসহ বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে সহজে যাওয়া যায়। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারলে চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।”


পর্যটন বিকাশে নগরীর সৌন্দর্য ও নাগরিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন, নিরাপদ চলাচল, হাঁটার জায়গা এবং বিনোদনকেন্দ্র—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ছোট-বড় বিভিন্ন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি জানান, নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি সবুজ খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগও পর্যটনবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ার পরিকল্পনার অংশ। ইতোমধ্যে ১১টি মাঠ প্রস্তুতের পথে রয়েছে। জাম্বুরি মাঠ, ফেরোজ শাহ মাঠ, বহুরূপী মাঠ, মহসিন কলেজ মাঠ ও চট্টগ্রাম কলেজ মাঠসহ বিভিন্ন মাঠের উন্নয়নকাজ চলছে।


মেয়র বলেন, “একটি পর্যটন নগরী শুধু সুন্দর ভবন দিয়ে তৈরি হয় না। সেখানে সবুজ মাঠ, পার্ক, হাঁটার জায়গা, বিনোদনকেন্দ্র এবং মানুষের স্বস্তির পরিবেশ থাকতে হয়। আমরা সেই চট্টগ্রামই গড়ে তুলতে চাই।”


চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ‘সিটি সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মেয়র। সেখানে উন্মুক্ত স্থান, ওয়াকওয়ে, লাইব্রেরি, কফিশপ ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি। নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য এটি একটি নতুন আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


মেয়র আরও বলেন, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত হিসেবে দেখলে হবে না; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম বড় সম্ভাবনাময় খাত। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।


তবে পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন মেয়র শাহাদাত।


তিনি বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশন কাজ করলেই হবে না। আমাদের প্রত্যেক নাগরিককে শহরটাকে ভালোবাসতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে, পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। এই শহর আমাদের পূর্বপুরুষদের, আমাদের এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের। তাই চট্টগ্রামকে সুন্দর রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।”


তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়বে। সম্মিলিত উদ্যোগে চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইকো-ফ্রেন্ডলি পর্যটন নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


মেয়র বলেন, “আমি নয়, আমরা সবাই মিলে চট্টগ্রামকে পর্যটন নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। চট্টগ্রামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: মেয়র শাহাদাত
0:00 0:00
1.0x