মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানুষের নাগালে আনতে ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’ চালু করেছে ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ)। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কার্ডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আবেগজনিত নানা সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত মানসিক যত্ন এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির (বিপিএ) সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু।
অধ্যাপক শামসুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব ও প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় অনেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগলেও সহায়তা নিতে আগ্রহী হন না। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
মনোকথার কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মনোবিজ্ঞানী ও মেন্টর হৃদয় ইফতেখার ইফতি ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’-এর পরিচিতি তুলে ধরে এর প্রয়োজনীয়তা, সুবিধা এবং নিয়মিত মানসিক যত্ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিআরডিএফের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যেরও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। মানসিক সংকট তীব্র হওয়ার আগেই সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সেবার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও সামাজিক সংকোচ দূর করতে হবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনের সময় পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রসুল বাবুল, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও এইচআরডিসির পরিচালক জিয়ানুর কবীর, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর মো. সামসুজ্জামান মোল্লা (ইমন), মনোবিজ্ঞানী তারিন তাবাসসুম এবং সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর সুলতান ভূইয়া।