ঢাকা    বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে থেমে আছে দোকানের মেশিন, ক্ষতির মুখে ছোট ব্যবসায়ীরা


প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে থেমে আছে দোকানের মেশিন, ক্ষতির মুখে ছোট ব্যবসায়ীরা
বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। ঝিনাইদহ শহর থেকে আজ বেলা ১১টার দিকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সকালেই দোকান খুলেছেন। সামনে ফটোকপি মেশিন, পাশে কম্পিউটার—সবই প্রস্তুত। বসে আছেন কর্মীরাও। শুধু বিদ্যুৎ নেই। ফলে মেশিনের শব্দের বদলে দোকানে নেমে এসেছে নীরবতা। কাজের অপেক্ষায় কর্মীরা আর বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় যেন থমকে আছে পুরো কর্মদিবস। এভাবেই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ঝিনাইদহ শহরের ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

দোকানে ক্রেতা এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। দোকান খোলা থাকছে, কর্মীরাও বসে থাকছেন; কিন্তু আয় হচ্ছে না। অথচ দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন, ইন্টারনেট বিলসহ অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফলে লোডশেডিং সরাসরি তাঁদের দৈনিক আয়ে প্রভাব ফেলছে।

ঝিনাইদহ শহরের একটি ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকানের চিত্র এটি। শুধু ওই দোকান নয়, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন শহরের অনেক ছোট ব্যবসায়ী। বিদ্যুৎ-নির্ভর ফটোকপি, কম্পিউটার ও অনলাইন সেবার দোকান, সেলুন, ফ্রিজ ও আইসক্রিম ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন আর কয়েক ঘণ্টার সমস্যা নয়। অনেক সময় ২৪ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ফটোকপি, প্রিন্ট, স্ক্যান, ছবি তোলা, অনলাইনে আবেদন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে দোকান খোলা রেখেও কার্যত কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঝিনাইদহ শহরের ফটোকপি দোকানি সোবহান বলেন, ‘সকাল থেকে দোকান খুলে বসে আছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালাতে পারি না। কাস্টমার এসে অপেক্ষা করেন। বেশি সময় অপেক্ষা করতে না পেরে অনেকে চলে যান। পরে বিদ্যুৎ এলেও ওই কাস্টমারকে আর পাওয়া যায় না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যেখানে আয় হতো তিন থেকে চার হাজার টাকা, বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে এক হাজার টাকাও আয় করতে পারছি না।’

আরও এক ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, ‘আমাদের দোকানে একসঙ্গে কয়েকটি মেশিন চলে। বিদ্যুৎ না থাকলে সব বন্ধ। আইপিএস দিয়ে কিছু সময় চালানো যায়, কিন্তু দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে সেটিও টেকে না।’ তিনি আরও বলেন, দোকানের কর্মচারীদেরও দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। কাজ না থাকলেও দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে। এতে সময় যাচ্ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না।

দোকানের কর্মচারী হৃদয় হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলে সারা দিন কাজের চাপ থাকে। আর বিদ্যুৎ চলে গেলে সবাই বসে থাকি। কাস্টমার এসে জিজ্ঞেস করেন, কখন বিদ্যুৎ আসবে। পরে বিদ্যুৎ না থাকায় চলে যান।’

ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকানের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে সেলুন ব্যবসায়ও। বৈদ্যুতিক মেশিন ও ফ্যান—দুটিই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গরমের মধ্যে সেলুন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে চাইছেন না ক্রেতারাও।

ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, বড় প্রতিষ্ঠানের মতো জেনারেটর বা বড় ধরনের বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। ফলে লোডশেডিং হলেই কার্যত ব্যবসা থেমে যায়।

সেলুন ব্যবসায়ী দিলীপ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা বড় ব্যবসায়ী নই। প্রতিদিনের আয় দিয়েই সংসার চালাই। এক দিন দোকান বন্ধ থাকলে শুধু ওই দিনের আয়টাই যায় না, সংসারের হিসাবও এলোমেলো হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের কাছে দোকান খোলা আর বন্ধ রাখার মধ্যে তেমন পার্থক্য থাকে না।’

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবুক্ত গীনপদবি বলেন, ঝিনাইদহে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৯ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। এ কারণে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিষয় : ঝিনাইদহ বিদ্যুৎ ঝিনাইদহ সদর

দৈনিক পটিয়া

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে থেমে আছে দোকানের মেশিন, ক্ষতির মুখে ছোট ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সকালেই দোকান খুলেছেন। সামনে ফটোকপি মেশিন, পাশে কম্পিউটার—সবই প্রস্তুত। বসে আছেন কর্মীরাও। শুধু বিদ্যুৎ নেই। ফলে মেশিনের শব্দের বদলে দোকানে নেমে এসেছে নীরবতা। কাজের অপেক্ষায় কর্মীরা আর বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় যেন থমকে আছে পুরো কর্মদিবস। এভাবেই ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ঝিনাইদহ শহরের ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

দোকানে ক্রেতা এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। দোকান খোলা থাকছে, কর্মীরাও বসে থাকছেন; কিন্তু আয় হচ্ছে না। অথচ দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন, ইন্টারনেট বিলসহ অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফলে লোডশেডিং সরাসরি তাঁদের দৈনিক আয়ে প্রভাব ফেলছে।

ঝিনাইদহ শহরের একটি ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকানের চিত্র এটি। শুধু ওই দোকান নয়, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন শহরের অনেক ছোট ব্যবসায়ী। বিদ্যুৎ-নির্ভর ফটোকপি, কম্পিউটার ও অনলাইন সেবার দোকান, সেলুন, ফ্রিজ ও আইসক্রিম ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন আর কয়েক ঘণ্টার সমস্যা নয়। অনেক সময় ২৪ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ফটোকপি, প্রিন্ট, স্ক্যান, ছবি তোলা, অনলাইনে আবেদন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে দোকান খোলা রেখেও কার্যত কোনো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঝিনাইদহ শহরের ফটোকপি দোকানি সোবহান বলেন, ‘সকাল থেকে দোকান খুলে বসে আছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে মেশিন চালাতে পারি না। কাস্টমার এসে অপেক্ষা করেন। বেশি সময় অপেক্ষা করতে না পেরে অনেকে চলে যান। পরে বিদ্যুৎ এলেও ওই কাস্টমারকে আর পাওয়া যায় না। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যেখানে আয় হতো তিন থেকে চার হাজার টাকা, বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে এক হাজার টাকাও আয় করতে পারছি না।’

আরও এক ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, ‘আমাদের দোকানে একসঙ্গে কয়েকটি মেশিন চলে। বিদ্যুৎ না থাকলে সব বন্ধ। আইপিএস দিয়ে কিছু সময় চালানো যায়, কিন্তু দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে সেটিও টেকে না।’ তিনি আরও বলেন, দোকানের কর্মচারীদেরও দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হচ্ছে। কাজ না থাকলেও দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে। এতে সময় যাচ্ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না।

দোকানের কর্মচারী হৃদয় হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলে সারা দিন কাজের চাপ থাকে। আর বিদ্যুৎ চলে গেলে সবাই বসে থাকি। কাস্টমার এসে জিজ্ঞেস করেন, কখন বিদ্যুৎ আসবে। পরে বিদ্যুৎ না থাকায় চলে যান।’

ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকানের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে সেলুন ব্যবসায়ও। বৈদ্যুতিক মেশিন ও ফ্যান—দুটিই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গরমের মধ্যে সেলুন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে চাইছেন না ক্রেতারাও।

ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, বড় প্রতিষ্ঠানের মতো জেনারেটর বা বড় ধরনের বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার সামর্থ্য তাঁদের নেই। ফলে লোডশেডিং হলেই কার্যত ব্যবসা থেমে যায়।

সেলুন ব্যবসায়ী দিলীপ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা বড় ব্যবসায়ী নই। প্রতিদিনের আয় দিয়েই সংসার চালাই। এক দিন দোকান বন্ধ থাকলে শুধু ওই দিনের আয়টাই যায় না, সংসারের হিসাবও এলোমেলো হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের কাছে দোকান খোলা আর বন্ধ রাখার মধ্যে তেমন পার্থক্য থাকে না।’

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবুক্ত গীনপদবি বলেন, ঝিনাইদহে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৯ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। এ কারণে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে থেমে আছে দোকানের মেশিন, ক্ষতির মুখে ছোট ব্যবসায়ীরা
0:00 0:00
1.0x