ঢাকা    রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

কর্ণফুলীতে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পিআইও’র একাদিক ভুল তথ্য প্রদান


প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কর্ণফুলীতে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পিআইও’র একাদিক ভুল তথ্য প্রদান
কর্ণফুলীতে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পিআইও’র একাদিক ভুল তথ্য প্রদান

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ, ব্যয়, শ্রমিক মজুরি ও উপকরণ কেনাকাটার হিসাবে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথির তথ্যের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যেও রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। সব মিলিয়ে প্রকল্প দুটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কর্ণফুলী উপজেলা পিআইও সুজন কান্তি দাশ বলেন, “এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।”

বরাদ্দেই ১১ লাখ টাকার পার্থক্য: নথি অনুযায়ী, শিকলবাহা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার। আলী হোসেন মার্কেট থেকে শিকলবাহা জিলানি গ্যাস পাম্প পর্যন্ত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের তথ্য রয়েছে।

নথিতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১০ টাকা, নন-ওয়েজ খাতে ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ টাকা এবং শ্রমিক সর্দার ভাতা ৪ হাজার ৩০০ টাকা উল্লেখ করে মোট বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা।

কিন্তু পিআইও সুজন কান্তি দাশের দাবি, প্রকল্পটির বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ নথির সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের পার্থক্য ১১ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা।

পিআইও জানান, ভ্যাটসহ প্রকল্পে প্রায় ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে মূল কাজের ব্যয় প্রায় ২৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই অর্থ ফেরতের চালান বা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কাজের মূল্য নিয়ে তিন ধরনের তথ্য : খাল পুনঃখনন কাজে আলী আকবর ও মোহাম্মদ জাফর নামে দুইজন শ্রমিক সর্দার কাজ করেছেন। আলী আকবরের কাজের মূল্য নিয়ে পাওয়া গেছে তিন ধরনের তথ্য। পিআইওর হিসাবে তাঁর কাজের মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের তথ্য অনুযায়ী, তা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আবার আলী আকবর নিজে জানিয়েছেন, তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

অপর শ্রমিক সর্দার মোহাম্মদ জাফরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। পিআইও’র দাবি, তাঁকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাজের মূল্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ১১ লাখ ২৪ হাজার এবং পিআইওর মাধ্যমে আরও ২ লাখ ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। দুই অঙ্ক মিলিয়ে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ফলে পিআইওর হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

পাইপ স্থাপনেও গরমিল : প্রকল্পে ৩০টি পাইপ স্থাপনের কথা থাকলেও বাস্তবে ১৮টি পাইপ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে এ খাতে ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ পিআইও জানিয়েছেন, ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টদের হিসাবে প্রতিটি পাইপের দাম প্রায় ৭ হাজার টাকা হলে ৩০টির মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। স্থাপন খরচসহ মোট ব্যয় হওয়ার কথা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ফলে এ খাতেও প্রকৃত ব্যয় যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

বৃক্ষরোপনেও অসংগতি: পিআইও কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, শিকলবাহা খাল পাড়ে ৩০০ বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়েছে। এ বাবদ খরচ দেখিয়েছেন ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি বৃক্ষের চারা বাবদ খরচ হয়েছে ৮৩৩ টাকা। যার বাস্তবতা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

শ্রমিকদের নামে ব্যাংক হিসাবের অভিযোগ : প্রকল্পের শ্রমিক মজুরি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অনেক ব্যক্তির নামে শ্রমিক হিসেবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁরা কোনো টাকা পাননি।

আরও অভিযোগ, শ্রমিক তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রকল্পে কাজই করেননি। এ অবস্থায় শ্রমিক তালিকা, হাজিরা খাতা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও মজুরি বিতরণ তালিকা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

খোয়াজনগর প্রকল্পেও প্রশ্ন:  ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক পাওয়া তথ্য মতে, খোয়াজনগর থেকে দোনের খাল পুনঃখনন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫' শ সাইত্রিশ টাকা। খোয়াজনগর খাল পুনঃখননে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আহমেকে এবং খালের ব্রীজঘাট অংশ দেওয়া হয়েছিলো সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিনকে। শেখ আহমেদকে খাল পুনঃখনন বাবদ দেওয়া হয়েছিলো ৯০ টাকা এবং মাঈন উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছিলো ১ লক্ষ টাকা। খাল পুনঃখননে সর্বমোট খরচ হয়েছিলো ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নতুন অর্থ বছর আসায় খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। তখন অবশিষ্ট অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

এবিষয়ে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আহমেদ বলেন, আমি খালের খোয়াজনগর অংশের অল্প পুনঃখনন কাজ করেছি। তাও ঘন্টা প্রতি। আমার কাজের বিল দেওয়া হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। খনন কাজে খরচ পোষাতে না পারায় আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

এদিকে চরপাথর ঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন বলেন, খোয়াজনগর খালের ব্রীজঘাট অংশের ৭৭০ ফুট কাজ করেছি। কাজের মজুরি বাবদ আমাকে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিলো। তিনি আরো বলেন, খাল খননের কাজ ছাড়াও আমাকে দিয়ে অন্যান্য কাজ করিয়েছে। যথাযত হিসাব করলে আমি PIO কাছে আরো টাকা পাবো। কিন্তু আমাকে তা দেওয়া হয়নি। এবং পরবর্তীতে আমিও তা আর চায়নি।

কর্ণফুলী উপজেলা পিআইও কর্মকর্তা সুজন কান্তি দাশ বলেন, খোয়াজনগর থেকে দোনের খাল পর্যন্ত খাল খননের জন্য বরাদ্দ এসেছে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে বলেন, ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। কিন্তু সরকারি নতিপত্র অনুযায়ী খাল খননের জন্য 'ওয়েজ কস্ট ৬৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৩'শ ঊনপঞ্চাশ টাকা এবং নন-ওয়েজ কস্ট ৬৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮'শ অষ্টাশি টাকা। মোট ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫'শ সাইত্রিশ টাকা। ফলে এখানে ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকার বড় পার্থক্য রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, খোয়াজনগর খাল পুনঃখননে সর্বমোট খরচ হয়েছে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নতুন অর্থ বছর আসাতে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দ অর্থ গড়মিল: ২টি খাল পুনঃখননের মোট বরাদ্দ প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৭৯ টাকা অথচ পিআইও সেখান থেকে  ২০ লাখ ৭ হাজার ৩৭৯ টাকা তথ্য গায়েব করেছেন। 

তদন্তের দাবি : বরাদ্দ ও ব্যয়ের অমিল, শ্রমিক সর্দারদের কাজের মূল্য নিয়ে ভিন্ন তথ্য, পাইপ স্থাপনে ব্যয়ের পার্থক্য এবং শ্রমিকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার অভিযোগ-সব মিলিয়ে প্রকল্প দুটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের মেজারমেন্ট বুক, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন, শ্রমিক তালিকা ও কাজের সরেজমিন পরিমাপ যাচাই করে স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত বরাদ্দ, ব্যয়, ফেরত দেওয়া অর্থ এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার পরিমাণ স্পষ্ট হবে।

দৈনিক পটিয়া

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


কর্ণফুলীতে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পিআইও’র একাদিক ভুল তথ্য প্রদান

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ, ব্যয়, শ্রমিক মজুরি ও উপকরণ কেনাকাটার হিসাবে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথির তথ্যের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এবং কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যেও রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। সব মিলিয়ে প্রকল্প দুটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কর্ণফুলী উপজেলা পিআইও সুজন কান্তি দাশ বলেন, “এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।”


বরাদ্দেই ১১ লাখ টাকার পার্থক্য: নথি অনুযায়ী, শিকলবাহা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার। আলী হোসেন মার্কেট থেকে শিকলবাহা জিলানি গ্যাস পাম্প পর্যন্ত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের তথ্য রয়েছে।

নথিতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১০ টাকা, নন-ওয়েজ খাতে ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ টাকা এবং শ্রমিক সর্দার ভাতা ৪ হাজার ৩০০ টাকা উল্লেখ করে মোট বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা।


কিন্তু পিআইও সুজন কান্তি দাশের দাবি, প্রকল্পটির বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ নথির সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের পার্থক্য ১১ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা।


পিআইও জানান, ভ্যাটসহ প্রকল্পে প্রায় ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে মূল কাজের ব্যয় প্রায় ২৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই অর্থ ফেরতের চালান বা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


কাজের মূল্য নিয়ে তিন ধরনের তথ্য : খাল পুনঃখনন কাজে আলী আকবর ও মোহাম্মদ জাফর নামে দুইজন শ্রমিক সর্দার কাজ করেছেন। আলী আকবরের কাজের মূল্য নিয়ে পাওয়া গেছে তিন ধরনের তথ্য। পিআইওর হিসাবে তাঁর কাজের মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের তথ্য অনুযায়ী, তা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আবার আলী আকবর নিজে জানিয়েছেন, তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার টাকা।


অপর শ্রমিক সর্দার মোহাম্মদ জাফরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। পিআইও’র দাবি, তাঁকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাজের মূল্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ১১ লাখ ২৪ হাজার এবং পিআইওর মাধ্যমে আরও ২ লাখ ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। দুই অঙ্ক মিলিয়ে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ফলে পিআইওর হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।


পাইপ স্থাপনেও গরমিল : প্রকল্পে ৩০টি পাইপ স্থাপনের কথা থাকলেও বাস্তবে ১৮টি পাইপ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে এ খাতে ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ পিআইও জানিয়েছেন, ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা।


সংশ্লিষ্টদের হিসাবে প্রতিটি পাইপের দাম প্রায় ৭ হাজার টাকা হলে ৩০টির মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। স্থাপন খরচসহ মোট ব্যয় হওয়ার কথা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ফলে এ খাতেও প্রকৃত ব্যয় যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।


বৃক্ষরোপনেও অসংগতি: পিআইও কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, শিকলবাহা খাল পাড়ে ৩০০ বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়েছে। এ বাবদ খরচ দেখিয়েছেন ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিটি বৃক্ষের চারা বাবদ খরচ হয়েছে ৮৩৩ টাকা। যার বাস্তবতা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।


শ্রমিকদের নামে ব্যাংক হিসাবের অভিযোগ : প্রকল্পের শ্রমিক মজুরি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অনেক ব্যক্তির নামে শ্রমিক হিসেবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁরা কোনো টাকা পাননি।

আরও অভিযোগ, শ্রমিক তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রকল্পে কাজই করেননি। এ অবস্থায় শ্রমিক তালিকা, হাজিরা খাতা, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও মজুরি বিতরণ তালিকা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।


খোয়াজনগর প্রকল্পেও প্রশ্ন:  ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক পাওয়া তথ্য মতে, খোয়াজনগর থেকে দোনের খাল পুনঃখনন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫' শ সাইত্রিশ টাকা। খোয়াজনগর খাল পুনঃখননে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আহমেকে এবং খালের ব্রীজঘাট অংশ দেওয়া হয়েছিলো সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিনকে। শেখ আহমেদকে খাল পুনঃখনন বাবদ দেওয়া হয়েছিলো ৯০ টাকা এবং মাঈন উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছিলো ১ লক্ষ টাকা। খাল পুনঃখননে সর্বমোট খরচ হয়েছিলো ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নতুন অর্থ বছর আসায় খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। তখন অবশিষ্ট অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা করা হয়েছে।


এবিষয়ে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আহমেদ বলেন, আমি খালের খোয়াজনগর অংশের অল্প পুনঃখনন কাজ করেছি। তাও ঘন্টা প্রতি। আমার কাজের বিল দেওয়া হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। খনন কাজে খরচ পোষাতে না পারায় আমি কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম।


এদিকে চরপাথর ঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন বলেন, খোয়াজনগর খালের ব্রীজঘাট অংশের ৭৭০ ফুট কাজ করেছি। কাজের মজুরি বাবদ আমাকে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিলো। তিনি আরো বলেন, খাল খননের কাজ ছাড়াও আমাকে দিয়ে অন্যান্য কাজ করিয়েছে। যথাযত হিসাব করলে আমি PIO কাছে আরো টাকা পাবো। কিন্তু আমাকে তা দেওয়া হয়নি। এবং পরবর্তীতে আমিও তা আর চায়নি।


কর্ণফুলী উপজেলা পিআইও কর্মকর্তা সুজন কান্তি দাশ বলেন, খোয়াজনগর থেকে দোনের খাল পর্যন্ত খাল খননের জন্য বরাদ্দ এসেছে ১ কোটি ২ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে বলেন, ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। কিন্তু সরকারি নতিপত্র অনুযায়ী খাল খননের জন্য 'ওয়েজ কস্ট ৬৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৩'শ ঊনপঞ্চাশ টাকা এবং নন-ওয়েজ কস্ট ৬৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮'শ অষ্টাশি টাকা। মোট ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫'শ সাইত্রিশ টাকা। ফলে এখানে ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকার বড় পার্থক্য রয়েছে।


তিনি আরো বলেন, খোয়াজনগর খাল পুনঃখননে সর্বমোট খরচ হয়েছে ৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। নতুন অর্থ বছর আসাতে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।


বরাদ্দ অর্থ গড়মিল: ২টি খাল পুনঃখননের মোট বরাদ্দ প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৭৯ টাকা অথচ পিআইও সেখান থেকে  ২০ লাখ ৭ হাজার ৩৭৯ টাকা তথ্য গায়েব করেছেন। 


তদন্তের দাবি : বরাদ্দ ও ব্যয়ের অমিল, শ্রমিক সর্দারদের কাজের মূল্য নিয়ে ভিন্ন তথ্য, পাইপ স্থাপনে ব্যয়ের পার্থক্য এবং শ্রমিকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার অভিযোগ-সব মিলিয়ে প্রকল্প দুটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের মেজারমেন্ট বুক, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন, শ্রমিক তালিকা ও কাজের সরেজমিন পরিমাপ যাচাই করে স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত বরাদ্দ, ব্যয়, ফেরত দেওয়া অর্থ এবং কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার পরিমাণ স্পষ্ট হবে।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
কর্ণফুলীতে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে পিআইও’র একাদিক ভুল তথ্য প্রদান
0:00 0:00
1.0x