ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

সম্পাদকীয় নীতিমালা, জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশে এডিটরস ফোরামের সভা


প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সম্পাদকীয় নীতিমালা, জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশে এডিটরস ফোরামের সভা
সম্পাদকীয় নীতিমালা, জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশে এডিটরস ফোরামের সভা

সম্পাদকীয় নীতিমালার সীমারেখা মেনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি জনস্বার্থে দুর্নীতি, অনিয়ম, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ এডিটরস ফোরাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখার নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখার অভিষেক উপলক্ষে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় কাজীর দেউড়িস্থ সংগঠনের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এডিটরস ফোরামের বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও চট্টল বাণী সম্পাদক নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন লেখক-সাংবাদিক আবদুল্লাহ মজুমদার।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ওয়ার্ল্ড প্রেস কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য ও এডিটরস ফোরামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। প্রধান আলোচক ছিলেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী।

সভায় ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও দৈনিক অপরাধ দমন–এর প্রধান সম্পাদক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলদুল এবং সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা–এর উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন দি ডেইলি কমার্শিয়াল টাইমস–এর সম্পাদক সুজিত কুমার দাশ, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম–এর বার্তা সম্পাদক আ ন ম তাজওয়ার আলম, সাপ্তাহিক পার্বত্য বাণী–এর মুজাহিদ, দৈনিক একাত্তর সংবাদ–এর সুমন সেন, দৈনিক চিত্র–এর রাশেদুল আজীজ, আমাদের চট্টগ্রাম–এর সেলিম উল্লাহ, দৈনিক আমাদের বাংলা–এর শাহজালাল ও জাফর ইকবাল ভূঁইয়াসহ অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ। টেলিকনফারেন্সে অংশ নেন সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা–এর স্বত্বাধিকারী রুনা।

সংবাদে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার ভারসাম্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, সম্পাদকীয় নীতিমালা সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়; বরং সংবাদকে বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল রাখার জন্য। নীতিমালার বাইরে গিয়ে যাচাইহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করলে একটি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার পাশাপাশি পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসবে না। বরং মাফিয়া চক্র, দুর্নীতিবাজ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, ঘুষখোর আমলা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা অনুসন্ধান, যাচাই ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তাঁর মতে, অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। সংবাদে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রোশ, রাজনৈতিক পক্ষপাত কিংবা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ যেন সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্যকে প্রভাবিত না করে, সেদিকেও সম্পাদকদের সতর্ক থাকতে হবে।

‘ক্ষমতাকে প্রশ্ন করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব’

প্রধান আলোচক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম কেবল ঘটনা জানানোর মাধ্যম নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই দুর্নীতি, ঘুষ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে সামনে আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাহসী সাংবাদিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয় না হলে সংবাদ তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়। তাই তথ্যের উৎস, নথি ও প্রমাণ যাচাই করে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।

শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলদুল বলেন, সংবাদ প্রকাশে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের প্রভাব থাকলে বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হয়। পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে সত্যতা ও নিরপেক্ষতার বিকল্প নেই।

মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা গণমাধ্যমের প্রাণ; তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে নৈতিকতা, পেশাগত শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা যুক্ত না থাকলে স্বাধীনতাই একসময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

সভায় বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করা এবং একই সঙ্গে সত্য যাচাইয়ের কঠোর নীতি অনুসরণ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গড়ে ওঠে। দুর্নীতির খবর প্রকাশ না করা যেমন সাংবাদিকতার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তেমনি যাচাইহীন অভিযোগকে সংবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও অনৈতিক।

সভায় সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ, তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, সংবাদ ও মতামতের পার্থক্য বজায় রাখা এবং জনস্বার্থকে সংবাদ প্রকাশের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দৈনিক পটিয়া

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


সম্পাদকীয় নীতিমালা, জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশে এডিটরস ফোরামের সভা

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সম্পাদকীয় নীতিমালার সীমারেখা মেনে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি জনস্বার্থে দুর্নীতি, অনিয়ম, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ এডিটরস ফোরাম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখার নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িত পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখার অভিষেক উপলক্ষে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় কাজীর দেউড়িস্থ সংগঠনের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এডিটরস ফোরামের বিভাগীয় সমন্বয়কারী ও চট্টল বাণী সম্পাদক নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন লেখক-সাংবাদিক আবদুল্লাহ মজুমদার।


সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ওয়ার্ল্ড প্রেস কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য ও এডিটরস ফোরামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত। প্রধান আলোচক ছিলেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী।


সভায় ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও দৈনিক অপরাধ দমন–এর প্রধান সম্পাদক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলদুল এবং সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা–এর উপদেষ্টা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।


প্রস্তুতি সভায় উপস্থিত ছিলেন দি ডেইলি কমার্শিয়াল টাইমস–এর সম্পাদক সুজিত কুমার দাশ, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম–এর বার্তা সম্পাদক আ ন ম তাজওয়ার আলম, সাপ্তাহিক পার্বত্য বাণী–এর মুজাহিদ, দৈনিক একাত্তর সংবাদ–এর সুমন সেন, দৈনিক চিত্র–এর রাশেদুল আজীজ, আমাদের চট্টগ্রাম–এর সেলিম উল্লাহ, দৈনিক আমাদের বাংলা–এর শাহজালাল ও জাফর ইকবাল ভূঁইয়াসহ অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ। টেলিকনফারেন্সে অংশ নেন সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা–এর স্বত্বাধিকারী রুনা।


সংবাদে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার ভারসাম্য

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, সম্পাদকীয় নীতিমালা সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়; বরং সংবাদকে বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভুল ও দায়িত্বশীল রাখার জন্য। নীতিমালার বাইরে গিয়ে যাচাইহীন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করলে একটি প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার পাশাপাশি পুরো গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসবে না। বরং মাফিয়া চক্র, দুর্নীতিবাজ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, ঘুষখোর আমলা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা অনুসন্ধান, যাচাই ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।


তাঁর মতে, অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট রাখা জরুরি। সংবাদে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রোশ, রাজনৈতিক পক্ষপাত কিংবা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ যেন সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্যকে প্রভাবিত না করে, সেদিকেও সম্পাদকদের সতর্ক থাকতে হবে।


‘ক্ষমতাকে প্রশ্ন করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব’

প্রধান আলোচক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম কেবল ঘটনা জানানোর মাধ্যম নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই দুর্নীতি, ঘুষ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো বিষয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে সামনে আনা প্রয়োজন।


তিনি বলেন, সাহসী সাংবাদিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয় না হলে সংবাদ তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়। তাই তথ্যের উৎস, নথি ও প্রমাণ যাচাই করে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।


শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলদুল বলেন, সংবাদ প্রকাশে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের প্রভাব থাকলে বস্তুনিষ্ঠতা নষ্ট হয়। পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে সত্যতা ও নিরপেক্ষতার বিকল্প নেই।


মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা গণমাধ্যমের প্রাণ; তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে নৈতিকতা, পেশাগত শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা যুক্ত না থাকলে স্বাধীনতাই একসময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

সভায় বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করা এবং একই সঙ্গে সত্য যাচাইয়ের কঠোর নীতি অনুসরণ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গড়ে ওঠে। দুর্নীতির খবর প্রকাশ না করা যেমন সাংবাদিকতার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তেমনি যাচাইহীন অভিযোগকে সংবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও অনৈতিক।


সভায় সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ, তথ্য-প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, সংবাদ ও মতামতের পার্থক্য বজায় রাখা এবং জনস্বার্থকে সংবাদ প্রকাশের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
সম্পাদকীয় নীতিমালা, জনস্বার্থের সংবাদ প্রকাশে এডিটরস ফোরামের সভা
0:00 0:00
1.0x