ঢাকা    সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার


প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

বিদেশযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক নাগরিক। সরকারি নথির আদলে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি করে তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। শুধু সনদ জাল করেই থেমে থাকেনি প্রতারক চক্রটি—জালিয়াতিকে নিখুঁত করতে তৈরি করা হয়েছিল নকল ওয়েবসাইট ও QR কোডও। QR কোড স্ক্যান করলে যাতে জাল সনদটি আসল মনে হয়, সে ব্যবস্থাও করেছিল চক্রটি।

অবশেষে প্রযুক্তির এই অভিনব প্রতারণার রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আশরাফ আলী খান (৩৬), মো. নিশান (৩৬), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৮) ও মো. আব্দুর রহমান (৪৬)।

১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ‘দ্রুত’ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

পুলিশ সূত্র জানায়, বিদেশগামী এক নাগরিকের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজনের বিষয়টি জানতে পেরে চক্রের সদস্যরা দ্রুত ও সহজে সনদ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য তার কাছে দাবি করা হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। টাকা নেওয়ার পর সরকারি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আদলে একটি জাল সনদ তৈরি করে দেওয়া হয়।

সনদটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়। এরপর প্রতারণার মাত্রা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে প্রকৃত পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থাকা QR কোডের আদলে তৈরি করা হয় নকল QR কোড।

স্ক্যান করলেই খুলত ভুয়া ওয়েবসাইট

চক্রটির জালিয়াতির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক ছিল নকল ওয়েবসাইট তৈরি। জাল সনদে থাকা QR কোড স্ক্যান করলে প্রকৃত সরকারি ওয়েবসাইটের পরিবর্তে প্রতারকদের তৈরি করা নকল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করত ব্যবহারকারী। সেখানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের তথ্য দেখানো হতো। ফলে প্রথম দেখায় সনদটি আসল কি না, তা বোঝার সুযোগ ছিল খুবই কম।

চক্রটির দেওয়া জাল সনদটি ভুক্তভোগী সত্যিকারের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স মনে করে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিতে জমা দেন। পরে এজেন্সির নিজস্ব যাচাইয়ে সনদটি জাল বলে ধরা পড়ে। বিষয়টি জানিয়ে ভুক্তভোগী চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরই তদন্তে নামে পুলিশ

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা শাখা। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, পারস্পরিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

তথ্য-উপাত্তের সমন্বিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি, নকল ওয়েবসাইট ও QR কোড ব্যবহার এবং প্রতারণার সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও সদস্যের সন্ধানে অভিযান

ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তদন্তে চক্রটির সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুধু প্রতারণা নয়, দেশের ভাবমূর্তির জন্যও হুমকি

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে একজন নাগরিকের আইনগত অবস্থার বিষয়ে এ নথির গুরুত্ব রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি এবং সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে নকল ওয়েবসাইট ও QR কোড ব্যবহার শুধু সাধারণ প্রতারণা নয়; এর সঙ্গে দেশের সরকারি নথির বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির বিষয়টিও জড়িত।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি নথি জালিয়াতি, প্রযুক্তির অপব্যবহার, প্রতারণা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে বিদেশগামী নাগরিকদের কোনো দালাল বা অবৈধ মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স না নিয়ে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

দৈনিক পটিয়া

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিদেশযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক নাগরিক। সরকারি নথির আদলে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি করে তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। শুধু সনদ জাল করেই থেমে থাকেনি প্রতারক চক্রটি—জালিয়াতিকে নিখুঁত করতে তৈরি করা হয়েছিল নকল ওয়েবসাইট ও QR কোডও। QR কোড স্ক্যান করলে যাতে জাল সনদটি আসল মনে হয়, সে ব্যবস্থাও করেছিল চক্রটি।


অবশেষে প্রযুক্তির এই অভিনব প্রতারণার রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আশরাফ আলী খান (৩৬), মো. নিশান (৩৬), মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৮) ও মো. আব্দুর রহমান (৪৬)।


১ লাখ ২০ হাজার টাকায় ‘দ্রুত’ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স


পুলিশ সূত্র জানায়, বিদেশগামী এক নাগরিকের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজনের বিষয়টি জানতে পেরে চক্রের সদস্যরা দ্রুত ও সহজে সনদ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য তার কাছে দাবি করা হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। টাকা নেওয়ার পর সরকারি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আদলে একটি জাল সনদ তৈরি করে দেওয়া হয়।


সনদটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়। এরপর প্রতারণার মাত্রা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে প্রকৃত পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে থাকা QR কোডের আদলে তৈরি করা হয় নকল QR কোড।


স্ক্যান করলেই খুলত ভুয়া ওয়েবসাইট


চক্রটির জালিয়াতির সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক ছিল নকল ওয়েবসাইট তৈরি। জাল সনদে থাকা QR কোড স্ক্যান করলে প্রকৃত সরকারি ওয়েবসাইটের পরিবর্তে প্রতারকদের তৈরি করা নকল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করত ব্যবহারকারী। সেখানে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের তথ্য দেখানো হতো। ফলে প্রথম দেখায় সনদটি আসল কি না, তা বোঝার সুযোগ ছিল খুবই কম।


চক্রটির দেওয়া জাল সনদটি ভুক্তভোগী সত্যিকারের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স মনে করে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিতে জমা দেন। পরে এজেন্সির নিজস্ব যাচাইয়ে সনদটি জাল বলে ধরা পড়ে। বিষয়টি জানিয়ে ভুক্তভোগী চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।


অভিযোগের পরই তদন্তে নামে পুলিশ


অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা শাখা। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, পারস্পরিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।


তথ্য-উপাত্তের সমন্বিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি, নকল ওয়েবসাইট ও QR কোড ব্যবহার এবং প্রতারণার সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।


আরও সদস্যের সন্ধানে অভিযান


ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তদন্তে চক্রটির সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


শুধু প্রতারণা নয়, দেশের ভাবমূর্তির জন্যও হুমকি


পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে একজন নাগরিকের আইনগত অবস্থার বিষয়ে এ নথির গুরুত্ব রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি এবং সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে নকল ওয়েবসাইট ও QR কোড ব্যবহার শুধু সাধারণ প্রতারণা নয়; এর সঙ্গে দেশের সরকারি নথির বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির বিষয়টিও জড়িত।


চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি নথি জালিয়াতি, প্রযুক্তির অপব্যবহার, প্রতারণা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একই সঙ্গে বিদেশগামী নাগরিকদের কোনো দালাল বা অবৈধ মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স না নিয়ে নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জালিয়াতির চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x