ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

‘আমার বাসা থেকে নয়, অন্য তলা থেকে মদ উদ্ধার’—ডিবির অভিযানের দাবি নিয়ে সাগরের প্রশ্ন


প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘আমার বাসা থেকে নয়, অন্য তলা থেকে মদ উদ্ধার’—ডিবির অভিযানের দাবি নিয়ে সাগরের প্রশ্ন
‘আমার বাসা থেকে নয়, অন্য তলা থেকে মদ উদ্ধার’—ডিবির অভিযানের দাবি নিয়ে সাগরের প্রশ্ন

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকায় ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা আবু শাকিল সাগর। তাঁর দাবি, পুলিশ যে স্থান থেকে মদ উদ্ধারের কথা বলছে, সেটি তাঁর বাসা নয়। তিনি ভবনটির নিচতলার একটি সেমিপাকা ঘরে থাকেন। মদ উদ্ধারের স্থান হিসেবে যে তলার কথা বলা হয়েছে, সেখানে তিনি থাকেন না বলেও দাবি তাঁর।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যম গোসাইলডাঙ্গার কবি দোভাষ লেন এলাকায় একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের দাবি করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পুষ্পেন ব্যানার্জী ও শামসুল ইসলাম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার করা মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

তবে ঘটনাটিকে ঘিরে সাগরের বক্তব্য ভিন্ন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলছে, আমার বাসা থেকে মাদক উদ্ধার করেছে। কিন্তু যে জায়গা থেকে মদ উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমার বাসা নয়। আমার বাসা নিচতলায়। আর মদ উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে তিনতলা থেকে।’

সাগরের দাবি, তিনি ওই ভবনের মালিক নন এবং ভবনের যে অংশ থেকে মদ উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তাঁর বসবাসও নেই। ওই ভবনে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনের যোগাযোগের তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সাগর।

তিনি বলেন, ‘ওই দুইজনের কললিস্ট এবং আমার মোবাইলের কললিস্ট চেক করা হোক। তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, সেটা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। তাদের সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন বা কোনো ধরনের যোগাযোগ থাকলে আমি নিজেকে অপরাধী হিসেবে মেনে নেব।’

সাগরের প্রশ্ন, তাঁর সঙ্গে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কোনো যোগাযোগ না থাকলে মামলায় তাঁর নাম কেন এসেছে।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলেছেন এই ছাত্রদল নেতা। তাঁর দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর পূর্ববিরোধ রয়েছে। ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

সাগর বলেন, ‘ওই পুলিশ সদস্যের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। আমাকে ডিসি অফিসেও ডাকা হয়েছিল। এরপরই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় আমার নাম আনা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

সাগরের দেওয়া নথি অনুযায়ী, তিনি এর আগে বন্দর থানার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওই অভিযোগে তদন্তে পক্ষপাত, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ দাবির অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবির কথা উল্লেখ করে তিন লাখ টাকা দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। �

অভিযোগপত্রে সাগর তদন্তে একপেশে আচরণের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনঃতদন্ত এবং বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন। একই সঙ্গে তাঁর কাছে ঘুষ দাবি ও অনিয়মের বিষয়ে সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। 

অন্যদিকে, মদ উদ্ধারের ঘটনায় ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাগরকে মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে সাগরের বক্তব্যের পর এখন কয়েকটি বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—মদ ঠিক কোন কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, ওই কক্ষের দখল বা ব্যবহার কার ছিল, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাগরের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না এবং উদ্ধার করা মাদকের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাগরকে পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে সাগরের বক্তব্য, ‘আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে আমার সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি সম্পর্ক না থাকে, তাহলে কেন আমাকে মামলায় জড়ানো হলো, সেটিও তদন্ত করে বের করা হোক।’

উল্লেখ্য, মাদক উদ্ধারের অভিযোগ এবং সাগরের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না।

দৈনিক পটিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘আমার বাসা থেকে নয়, অন্য তলা থেকে মদ উদ্ধার’—ডিবির অভিযানের দাবি নিয়ে সাগরের প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকায় ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা আবু শাকিল সাগর। তাঁর দাবি, পুলিশ যে স্থান থেকে মদ উদ্ধারের কথা বলছে, সেটি তাঁর বাসা নয়। তিনি ভবনটির নিচতলার একটি সেমিপাকা ঘরে থাকেন। মদ উদ্ধারের স্থান হিসেবে যে তলার কথা বলা হয়েছে, সেখানে তিনি থাকেন না বলেও দাবি তাঁর।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যম গোসাইলডাঙ্গার কবি দোভাষ লেন এলাকায় একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের দাবি করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পুষ্পেন ব্যানার্জী ও শামসুল ইসলাম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার করা মদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

তবে ঘটনাটিকে ঘিরে সাগরের বক্তব্য ভিন্ন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলছে, আমার বাসা থেকে মাদক উদ্ধার করেছে। কিন্তু যে জায়গা থেকে মদ উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমার বাসা নয়। আমার বাসা নিচতলায়। আর মদ উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে তিনতলা থেকে।’

সাগরের দাবি, তিনি ওই ভবনের মালিক নন এবং ভবনের যে অংশ থেকে মদ উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তাঁর বসবাসও নেই। ওই ভবনে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনের যোগাযোগের তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সাগর।

তিনি বলেন, ‘ওই দুইজনের কললিস্ট এবং আমার মোবাইলের কললিস্ট চেক করা হোক। তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল কি না, সেটা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। তাদের সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন বা কোনো ধরনের যোগাযোগ থাকলে আমি নিজেকে অপরাধী হিসেবে মেনে নেব।’

সাগরের প্রশ্ন, তাঁর সঙ্গে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কোনো যোগাযোগ না থাকলে মামলায় তাঁর নাম কেন এসেছে।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলেছেন এই ছাত্রদল নেতা। তাঁর দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর পূর্ববিরোধ রয়েছে। ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

সাগর বলেন, ‘ওই পুলিশ সদস্যের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল। পরে তাঁর বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। আমাকে ডিসি অফিসেও ডাকা হয়েছিল। এরপরই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় আমার নাম আনা হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

সাগরের দেওয়া নথি অনুযায়ী, তিনি এর আগে বন্দর থানার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওই অভিযোগে তদন্তে পক্ষপাত, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ঘুষ দাবির অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবির কথা উল্লেখ করে তিন লাখ টাকা দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। �


অভিযোগপত্রে সাগর তদন্তে একপেশে আচরণের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনঃতদন্ত এবং বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন। একই সঙ্গে তাঁর কাছে ঘুষ দাবি ও অনিয়মের বিষয়ে সাক্ষী ও প্রমাণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। 


অন্যদিকে, মদ উদ্ধারের ঘটনায় ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাগরকে মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তবে সাগরের বক্তব্যের পর এখন কয়েকটি বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—মদ ঠিক কোন কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, ওই কক্ষের দখল বা ব্যবহার কার ছিল, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাগরের কোনো যোগাযোগ ছিল কি না এবং উদ্ধার করা মাদকের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাগরকে পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে সাগরের বক্তব্য, ‘আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। তদন্তে আমার সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি সম্পর্ক না থাকে, তাহলে কেন আমাকে মামলায় জড়ানো হলো, সেটিও তদন্ত করে বের করা হোক।’

উল্লেখ্য, মাদক উদ্ধারের অভিযোগ এবং সাগরের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
‘আমার বাসা থেকে নয়, অন্য তলা থেকে মদ উদ্ধার’—ডিবির অভিযানের দাবি নিয়ে সাগরের প্রশ্ন
0:00 0:00
1.0x