ঢাকা    সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

চন্দনাইশে স্কাউট প্রশিক্ষণ কোর্সে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ


প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চন্দনাইশে স্কাউট প্রশিক্ষণ কোর্সে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ
চন্দনাইশে স্কাউট প্রশিক্ষণ কোর্সে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বাংলাদেশ স্কাউটসের পাঁচ দিনব্যাপী ২৩৪তম কাব স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সে নিম্নমানের খাবার, আবাসিক ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মান, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, মশার উপদ্রব ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেকে রাতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অবস্থান করছেন না। এতে আবাসিক প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর চন্দনাইশের উত্তর হারলা পূর্ব জোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর শেষ হয়। বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের একটি স্মারকের ভিত্তিতে আয়োজিত এ কোর্সে ৪২ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থী ও আটজন প্রশিক্ষক অংশ নেন। কোর্স লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্কাউটার আবদুল্লাহ হান্নান (এলটি)।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, কোর্সের শুরুর দিকে সকালের ও বিকেলের নাশতায় ছোট কলা, আধাসিদ্ধ পরোটা কিংবা দুটি বিস্কুট দেওয়া হতো। দুপুরের খাবারে পানিযুক্ত সবজি এবং দুর্গন্ধযুক্ত ছোট আকারের মুরগি বা মাছ পরিবেশন করা হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর খাবারের মান নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শুক্রবার দুপুরে মুরগির মাংস ও ডিম দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁরা জানান।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক কোর্স হওয়া সত্ত্বেও অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, মশার উপদ্রব ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে রাতে সেখানে অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকে সকালে এসে হাজিরা দিয়ে রাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, প্রতি ব্যাচে আনুমানিক ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৬০-৭০ হাজার টাকার খাবার ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদে অবশিষ্ট অর্থের যথাযথ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যয়ের হিসাবে গরমিল রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

অন্যদিকে, কোর্স লিডার স্কাউটার আবদুল্লাহ হান্নান (এলটি)-এর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। তবে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাহাবুবুল আলম বলেন, কোর্স লিডার যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী নিয়ম মেনে খাবারের খরচ বহন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অর্থ তছরুপ হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। যেসব প্রশিক্ষণার্থীর ছোট সন্তান রয়েছে, তাঁরা কোর্স লিডারের অনুমতি নিয়ে পাশের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক সম্পাদক এস এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কমিটি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের জন্য দল পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কোর্সের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পরও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

দৈনিক পটিয়া

সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬


চন্দনাইশে স্কাউট প্রশিক্ষণ কোর্সে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বাংলাদেশ স্কাউটসের পাঁচ দিনব্যাপী ২৩৪তম কাব স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সে নিম্নমানের খাবার, আবাসিক ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মান, অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, মশার উপদ্রব ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেকে রাতে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অবস্থান করছেন না। এতে আবাসিক প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


গত ২৭ অক্টোবর চন্দনাইশের উত্তর হারলা পূর্ব জোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর শেষ হয়। বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের একটি স্মারকের ভিত্তিতে আয়োজিত এ কোর্সে ৪২ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থী ও আটজন প্রশিক্ষক অংশ নেন। কোর্স লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্কাউটার আবদুল্লাহ হান্নান (এলটি)।


প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, কোর্সের শুরুর দিকে সকালের ও বিকেলের নাশতায় ছোট কলা, আধাসিদ্ধ পরোটা কিংবা দুটি বিস্কুট দেওয়া হতো। দুপুরের খাবারে পানিযুক্ত সবজি এবং দুর্গন্ধযুক্ত ছোট আকারের মুরগি বা মাছ পরিবেশন করা হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।


প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর খাবারের মান নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শুক্রবার দুপুরে মুরগির মাংস ও ডিম দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁরা জানান।


প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক কোর্স হওয়া সত্ত্বেও অপরিচ্ছন্ন টয়লেট, মশার উপদ্রব ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে রাতে সেখানে অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকে সকালে এসে হাজিরা দিয়ে রাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।


প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, প্রতি ব্যাচে আনুমানিক ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৬০-৭০ হাজার টাকার খাবার ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদে অবশিষ্ট অর্থের যথাযথ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যয়ের হিসাবে গরমিল রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।


অন্যদিকে, কোর্স লিডার স্কাউটার আবদুল্লাহ হান্নান (এলটি)-এর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। তবে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাহাবুবুল আলম বলেন, কোর্স লিডার যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী নিয়ম মেনে খাবারের খরচ বহন করা হয়েছে। কোনো ধরনের অর্থ তছরুপ হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। যেসব প্রশিক্ষণার্থীর ছোট সন্তান রয়েছে, তাঁরা কোর্স লিডারের অনুমতি নিয়ে পাশের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।


বাংলাদেশ স্কাউটস, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক সম্পাদক এস এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কমিটি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের জন্য দল পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কোর্সের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পরও বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
চন্দনাইশে স্কাউট প্রশিক্ষণ কোর্সে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x