সরকারি ছুটির দিনেও যানজট ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহ নগরবাসী। গতকাল বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শম্ভুগঞ্জ মোড় থেকে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এবং চরপাড়া-কেওটখালী হয়ে ঢাকা বাইপাস মোড় পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট দেখা গেছে।
যানজটের সঙ্গে যুক্ত হয় বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি। গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত নগরীতে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিপাতে ময়মনসিংহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় সকাল থেকেই দেখা দেয় দীর্ঘ জলাবদ্ধতা। এর ফলে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। ময়মনসিংহ আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নির্মল চন্দ্র মজুমদার সমকালকে জানান, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন এক দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসা পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দুপুর ৩টার দিকে শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের ওপর দেখা যায় যানজটে আটকে পড়া গাড়ি থেকে যাত্রীরা নেমে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই হেঁটে যাচ্ছেন।
গাজীপুরের মাওনা ও টঙ্গী এলাকার দুটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন আফজাল মিয়া ও নাসরিন সুলতানা। আফজাল মিয়ার বাড়ি হালুয়াঘাটে এবং নাসরিন সুলতানার বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলে ফেরার পথে নগরীর ব্রিজ মোড় ও বাইপাস এলাকায় দুর্ভোগে পড়েন তারা। ব্রিজ মোড়ে যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় আফজাল মিয়া আফসোস করে বলেন, ‘এক দিন ছুটি পাইয়া ভাইবাছিলাম বাড়িত গিয়া পরিবাররে একটু সময় দিমু। অহন ছুডিও শেষ, আর সকালে আইসা এই বৃষ্টি আর যানজটের মধ্যে পইড়া গেছি। সময়মতো মাওনা পৌঁছাইতে না পারলে কালকে চাকরি লইয়া টানাটানি পইড়া যাইব।’
ঢাকা বাইপাস এলাকায় কথা হয় নাসরিন সুলতানার সঙ্গে। ভেজা কাপড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টঙ্গী যাইমু, কিন্তু গাড়ি তো একচুলও নড়তাছে না। ব্রিজের ওপর থাইকা হাইট্টা আইছি, পুরা শরীর ভাইঙা পড়তাছে। ভিইজা একাকার হইয়া গেছি, তাও গাড়ির দেখা নাই। আমরা গরিব মানুষ, ছুটির দিনটাতেও যদি এমনে কষ্টে মরণ লাগে তইলে কই যামু?’ একই রকম চিত্র দেখা গেছে শম্ভুগঞ্জ মোড়, আকুয়া বাইপাস ও কেওয়াটখালী এলাকাতেও। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়া এবং যানজটের প্রভাবে যাত্রী ও পথচারীদের হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) গোলাম মাওলা জানান, এক দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে অনেকে বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়েছেন। শুক্র-শনিবার এমনিতেই বন্ধ। সব মিলিয়ে চার-পাঁচ দিন ছুটি থাকায় ঢাকা, গাজীপুর ও টঙ্গী থেকে হাজারো মানুষ গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। এদিকে বৃষ্টি থাকায় যানজট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মানুষকে যানজটের ধকল থেকে মুক্তি দিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানোর দাবি করেন তিনি।