ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

গ্যাসের সংকটে পোশাক কারখানায় ছুটি বেড়েছে


প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

গ্যাসের সংকটে পোশাক কারখানায় ছুটি বেড়েছে
গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুরের শিল্পকারখানায় টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে সড়কে ঘরমুখো শ্রমিকের ভিড় দেখা যায়। মাওনা চৌরাস্তা থেকে তোলা -সমকাল

গত দুই সপ্তাহ ধরে সারাদেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গ্যাসের ব্যবহার হয় এমন সব খাতই সমস্যায় পড়েছে। তবে বেশি সংকটে পড়েছে ভারী শিল্পকারখানা। গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় চাকা ঘুরছে না এসব শিল্পের। শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রেখেই বেতন দিতে হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় গতকাল বুধবার গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে টানা তিন দিন ছুটি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শিল্পকারখানা কর্তৃপক্ষ। 

শুক্রবার সাধারণত পোশাক কারখানায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। মাঝের এক দিন আজ বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণায় তিন দিনের এই ছুটি মিলেছে। অবশ্য কিছু কারখানা আগামী শনিবার পর্যন্ত টানা চার দিনের ছুটিও ঘোষণা করেছে। অপ্রত্যাশিত এই ছুটি পেয়ে খুশি শ্রমিকদের একটা বড় অংশ গ্রামের বাড়িতে গেছেন।  

গাজীপুরে ৭ শতাধিক কারখানায় ছুটি মাওনা ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে গতকাল বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক লাইলি বেগম। চার দিনের ছুটিতে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। 

তাঁর মতো এ রকম অনেক শত শত শ্রমিক বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। সবার গন্তব্য যার যার গ্রামের বাড়ি। তাদের কেউ কেউ এই ছুটিকে ঈদের ছুটির সঙ্গে তুলনা করছেন।

গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুর জেলা ও মহানগরের সাত শতাধিক শিল্পকারখানায় বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ কারণে শিল্পাঞ্চলে হঠাৎ করেই শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের ঢল। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা, মাওনা চৌরাস্তা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ভিড় আরও বেশি দেখা গেছে। হাজার হাজার শ্রমিক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাস ও অন্যান্য যানবাহনের অপেক্ষা করছেন। পরিবহন সংকটে অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হন। মাঝরাত পর্যন্ত অনেক শ্রমিককে বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। 

গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা রয়েছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস-সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। 

শিল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানাই সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাবে। আর সেব কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোতে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটি পাওয়া কারখানাগুলোর অধিকাংশই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। 

মহানগরের আমবাগ এলাকার তাপস পিএন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাপস কুমার তালুকদার সমকালকে বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে তার কারখানার গার্মেন্ট শাখায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে টেক্সটাইল বিভাগের আংশিক চালু রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগের শুক্রবার কাজ করিয়ে নেওয়ায় শনিবারও ছুটি থাকবে। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটি পাওয়া শ্রমিকরা রোববার কাজে যোগ দেওয়ার কথা। 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ বলেন, কোনো কোনো কারখানায় তিন দিন, কোনোটি চার দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২২ শতাংশ কারখানা ছুটির আওতায় এসেছে। সে হিসাবে ছুটি ঘোষণা করা কারখানার সংখ্যা সাত শতাধিকের কম নয়। 

তিতাস গ্যাসের গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী গোলাম ফারুক বলেন, জেলা ও মহানগরে দৈনিক প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট বা তার চেয়ে কিছু বেশি। অর্থাৎ, চাহিদার প্রায় অর্ধেক। এ কারণে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

সাভার-আশুলিয়ায় বেশির ভাগ কারখানা ছুটি   জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ পোশাক কারখানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা তিন দিন ছুটি ভোগ করছেন শ্রমিকরা। ছুটি শেষে আগামী শনিবার যথারীতি কারখানা খোলার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ। 

সাভার উলাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আল মুসলিম গ্রুপের পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ জানান, গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক দিন সাধারণ ছুটি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিল রেখে গ্রুপের পোশাক কারখানাগুলো তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

তিনি জানান, সাভার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় একইভাবে তিন দিনের ছুটি ভোগ করছেন শ্রমিকরা। 

আশুলিয়ায় জিরাবো এলাকার লুসাকা গ্রুপের পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মনিরুজ্জামান জানান, গত মঙ্গলবা‍র শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে খোলা যায় কিনা–  এ বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পোশাক কারখানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।  

এদিকে লম্বা ছুটি পেয়ে পোশাক শ্রমিকদের অনেকেই গত মঙ্গলবার কাজ শেষে গ্রামে রওনা হয়েছে। এতে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। মহাসড়কে কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে । 

নারায়ণগঞ্জে আজকের কাজ আগে করিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে। গ্যাস সংকটের কারণে ডাইং ফ্যাক্টরিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে না পারা ও এক দিন ছুটি দিয়ে তিন দিনের ছুটি মেলাতে মালিকরা এই ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার রহমান গার্মেন্টের সিনিয়র ডিজিএম শিহাব উদ্দিন জানান, বুধবার ৫ আগস্টের ছুটি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। মাঝে বৃহস্পতিবার ছুটি থাকলে টানা তিন দিনের ছুটিতে অনেক শ্রমিকই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পায়– এই চিন্তা থেকে বৃহস্পতিবারের কাজ গত শুক্রবারই করিয়ে নিয়েছেন তারা। ফলে বুধবার থেকে আগামীকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলে কারখানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

তবে পঞ্চবটীতে অবস্থিত বিসিক হোসিয়ারি পল্লি মালিক সমিতির অন্যতম পরিচালক শহীদুল ইসলাম জানান, আজ বৃহস্পতিবার বিসিকের বেশির ভাগ গার্মেন্ট বন্ধ থাকলেও তাদের ৪৬৫টি নিটিং কারখানা খোলা থাকবে। কারণ, গার্মেন্ট বন্ধ থাকলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কম থাকবে। লোডশেডিং থাকবে না। এ সুযোগ কাজে লাগাতে কারখানা খোলা রাখছেন তারা। 

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল জানান, শ্রমিকদের তিন দিনের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ছুটি কেউ কেউ গত শুক্রবার কাজ করিয়ে সমন্বয় করছেন। কেউ কেউ পরের শুক্রবার কাজ করিয়ে সমন্বয় করবেন। 

তিনি আরও বলেন, বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ২৫৬টি গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১২২টি গত দুই বছরে বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১৩৪টি গার্মেন্টের বেশির ভাগ আজ বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে। বিসিকের বাইরেও একইভাবে অধিকাংশ গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টের কারখানাও বন্ধ আছে। কারণ, গ্যাস সংকটে এসব কারখানার ডাইং সেকশনে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া রপ্তানি আদেশও কমে গেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট, সাব-কন্ট্রাক্ট গার্মেন্ট, ডাইং, নিটিং ফ্যাক্টরি, প্রিন্টিং ফ্যাক্টরি, প্রসেসিং কারখানা, প্যাকেজিং কারখানাসহ গার্মেন্ট-সংশ্লিষ্ট প্রায় দুই হাজার ২০০ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। 

বিষয় : গ্যাস সংকট

দৈনিক পটিয়া

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


গ্যাসের সংকটে পোশাক কারখানায় ছুটি বেড়েছে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত দুই সপ্তাহ ধরে সারাদেশে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। গ্যাসের ব্যবহার হয় এমন সব খাতই সমস্যায় পড়েছে। তবে বেশি সংকটে পড়েছে ভারী শিল্পকারখানা। গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় চাকা ঘুরছে না এসব শিল্পের। শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রেখেই বেতন দিতে হচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় গতকাল বুধবার গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে টানা তিন দিন ছুটি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শিল্পকারখানা কর্তৃপক্ষ। 

শুক্রবার সাধারণত পোশাক কারখানায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। মাঝের এক দিন আজ বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণায় তিন দিনের এই ছুটি মিলেছে। অবশ্য কিছু কারখানা আগামী শনিবার পর্যন্ত টানা চার দিনের ছুটিও ঘোষণা করেছে। অপ্রত্যাশিত এই ছুটি পেয়ে খুশি শ্রমিকদের একটা বড় অংশ গ্রামের বাড়িতে গেছেন।  

গাজীপুরে ৭ শতাধিক কারখানায় ছুটি মাওনা ফ্লাইওভারের দক্ষিণ পাশে গতকাল বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক লাইলি বেগম। চার দিনের ছুটিতে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। 

তাঁর মতো এ রকম অনেক শত শত শ্রমিক বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। সবার গন্তব্য যার যার গ্রামের বাড়ি। তাদের কেউ কেউ এই ছুটিকে ঈদের ছুটির সঙ্গে তুলনা করছেন।

গ্যাস সংকটের কারণে গাজীপুর জেলা ও মহানগরের সাত শতাধিক শিল্পকারখানায় বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ কারণে শিল্পাঞ্চলে হঠাৎ করেই শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের ঢল। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা, মাওনা চৌরাস্তা ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে ভিড় আরও বেশি দেখা গেছে। হাজার হাজার শ্রমিক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাস ও অন্যান্য যানবাহনের অপেক্ষা করছেন। পরিবহন সংকটে অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হন। মাঝরাত পর্যন্ত অনেক শ্রমিককে বৃষ্টির মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। 

গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা রয়েছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস-সংকটে শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। 

শিল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানাই সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাবে। আর সেব কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোতে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটি পাওয়া কারখানাগুলোর অধিকাংশই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। 

মহানগরের আমবাগ এলাকার তাপস পিএন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাপস কুমার তালুকদার সমকালকে বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে তার কারখানার গার্মেন্ট শাখায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে টেক্সটাইল বিভাগের আংশিক চালু রয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগের শুক্রবার কাজ করিয়ে নেওয়ায় শনিবারও ছুটি থাকবে। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটি পাওয়া শ্রমিকরা রোববার কাজে যোগ দেওয়ার কথা। 

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ বলেন, কোনো কোনো কারখানায় তিন দিন, কোনোটি চার দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২২ শতাংশ কারখানা ছুটির আওতায় এসেছে। সে হিসাবে ছুটি ঘোষণা করা কারখানার সংখ্যা সাত শতাধিকের কম নয়। 

তিতাস গ্যাসের গাজীপুর জোনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী গোলাম ফারুক বলেন, জেলা ও মহানগরে দৈনিক প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ কোটি ঘনফুট বা তার চেয়ে কিছু বেশি। অর্থাৎ, চাহিদার প্রায় অর্ধেক। এ কারণে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

সাভার-আশুলিয়ায় বেশির ভাগ কারখানা ছুটি   জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ পোশাক কারখানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা তিন দিন ছুটি ভোগ করছেন শ্রমিকরা। ছুটি শেষে আগামী শনিবার যথারীতি কারখানা খোলার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষ। 

সাভার উলাইল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আল মুসলিম গ্রুপের পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজু আহম্মেদ জানান, গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক দিন সাধারণ ছুটি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিল রেখে গ্রুপের পোশাক কারখানাগুলো তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

তিনি জানান, সাভার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় একইভাবে তিন দিনের ছুটি ভোগ করছেন শ্রমিকরা। 

আশুলিয়ায় জিরাবো এলাকার লুসাকা গ্রুপের পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মনিরুজ্জামান জানান, গত মঙ্গলবা‍র শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে খোলা যায় কিনা–  এ বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পোশাক কারখানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।  

এদিকে লম্বা ছুটি পেয়ে পোশাক শ্রমিকদের অনেকেই গত মঙ্গলবার কাজ শেষে গ্রামে রওনা হয়েছে। এতে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। মহাসড়কে কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে । 

নারায়ণগঞ্জে আজকের কাজ আগে করিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে। গ্যাস সংকটের কারণে ডাইং ফ্যাক্টরিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে না পারা ও এক দিন ছুটি দিয়ে তিন দিনের ছুটি মেলাতে মালিকরা এই ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। 

শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার রহমান গার্মেন্টের সিনিয়র ডিজিএম শিহাব উদ্দিন জানান, বুধবার ৫ আগস্টের ছুটি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। মাঝে বৃহস্পতিবার ছুটি থাকলে টানা তিন দিনের ছুটিতে অনেক শ্রমিকই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পায়– এই চিন্তা থেকে বৃহস্পতিবারের কাজ গত শুক্রবারই করিয়ে নিয়েছেন তারা। ফলে বুধবার থেকে আগামীকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলে কারখানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

তবে পঞ্চবটীতে অবস্থিত বিসিক হোসিয়ারি পল্লি মালিক সমিতির অন্যতম পরিচালক শহীদুল ইসলাম জানান, আজ বৃহস্পতিবার বিসিকের বেশির ভাগ গার্মেন্ট বন্ধ থাকলেও তাদের ৪৬৫টি নিটিং কারখানা খোলা থাকবে। কারণ, গার্মেন্ট বন্ধ থাকলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কম থাকবে। লোডশেডিং থাকবে না। এ সুযোগ কাজে লাগাতে কারখানা খোলা রাখছেন তারা। 

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল জানান, শ্রমিকদের তিন দিনের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ছুটি কেউ কেউ গত শুক্রবার কাজ করিয়ে সমন্বয় করছেন। কেউ কেউ পরের শুক্রবার কাজ করিয়ে সমন্বয় করবেন। 

তিনি আরও বলেন, বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ২৫৬টি গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১২২টি গত দুই বছরে বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১৩৪টি গার্মেন্টের বেশির ভাগ আজ বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে। বিসিকের বাইরেও একইভাবে অধিকাংশ গার্মেন্ট বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টের কারখানাও বন্ধ আছে। কারণ, গ্যাস সংকটে এসব কারখানার ডাইং সেকশনে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া রপ্তানি আদেশও কমে গেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট, সাব-কন্ট্রাক্ট গার্মেন্ট, ডাইং, নিটিং ফ্যাক্টরি, প্রিন্টিং ফ্যাক্টরি, প্রসেসিং কারখানা, প্যাকেজিং কারখানাসহ গার্মেন্ট-সংশ্লিষ্ট প্রায় দুই হাজার ২০০ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। 


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
গ্যাসের সংকটে পোশাক কারখানায় ছুটি বেড়েছে
0:00 0:00
1.0x