ভারতের নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলা আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলই রাজনৈতিকভাবে কিছুটা লাভবান হয়েছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দুই দলই মোটামুটি বেনিফিটেড হয়েছে। আওয়ামী লীগ বেনিফিটেড হয়েছে, কারণ এখন এই ইস্যুটা নিয়ে দেশ দুদিন ধরে উত্তাল হয়ে আছে। আর বিএনপি বেনিফিটেড হচ্ছে, কারণ আমরা এখন ভয়াবহ গ্যাস সংকট নিয়ে কথা বলছি না। আমি সপ্তাহে তিন দিন গ্রামে থাকি। ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা গ্রামে বিদ্যুৎ থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘এরপর আছে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম। এরপর আছে নানান ধরনের নাগরিক সমস্যা। এসব নিয়ে কোনো আলোচনা না করে আমরা এখন শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলছি। গত দুই বছরে শেখ হাসিনার অসংখ্য অডিও বা ফোনালাপ প্রকাশ হয়েছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। সেটার সঙ্গে এই সংবাদ সম্মেলনের পার্থক্যটা কোথায়? আমি কিন্তু কোনো পার্থক্য পাইনি।’
শেখ হাসিনার অতীতের রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘যদি অতীতে কোনো ভুল হয়ে থাকে, আমি ক্ষমা চাচ্ছি, একবার সুযোগ চাই।’ আমার যতদূর মনে পড়ে, তিনি এভাবেই ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু এবার কেন সেই কথা বলছেন না?’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় কোনো আওয়াজ তোলেনি। এরপর ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ-সমর্থক কিছু সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে কথা বলা শুরু করেন। আর সেই আলোচনা জোরালো হতে থাকে তখনই, যখন দেখা গেল বাংলাদেশে গত দুই বছরে কোনো সরকারই একবিন্দু পরিমাণ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।’
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও যুক্ত ছিলেন।