ঢাকা    রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যা: দুই সহোদরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড


প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যা: দুই সহোদরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
বিশেষ জজ আদালত, নোয়াখালী। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যার মামলায় দুই সহোদরসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁদের বাবাসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের অন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্যার ছেলে ওমর নাসির সাজু ও ওমর শরীফ সুলতান এবং নোয়াখালী পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার তোফায়ের আহাম্মদের ছেলে মো. সৌরভ।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন অন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্ল্যা, নুরুল ইসলাম ফারুকের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী এবং মোহাম্মদ উল্যার ছেলে হারুনুর রশিদ বাবুল।

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন ফয়সাল মাহমুদ রাব্বী ও মামুন। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাফাক্কার হোসেন মো. খায়রুল ওয়ালা।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুর ২টার দিকে আসামি সৌরভ নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাসের পাশের একটি পুকুরে কুকুরকে গোসল করাতে নিয়ে যান। পুকুরে কুকুর গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সৌরভের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সালিসি বৈঠকের কথা ছিল। তবে সালিসে যাওয়ার আগে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রাজীব, ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে ধাওয়া করে মারধর করেন। পরে তিনজন একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

গুলিতে রাজীব ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরাও মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন নাহার বেগম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ওমর নাসির সাজু, ওমর শরীফ সুলতান ও মো. সৌরভকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী, কুদরত উল্যাহ ও হারুনুর রশিদ বাবুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ। তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পীর উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।’

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।

বিষয় : জেলার খবর কারাদণ্ড নোয়াখালী বেগমগঞ্জ চট্টগ্রাম বিভাগ মৃত্যুদণ্ড

দৈনিক পটিয়া

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যা: দুই সহোদরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যার মামলায় দুই সহোদরসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁদের বাবাসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের অন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্যার ছেলে ওমর নাসির সাজু ও ওমর শরীফ সুলতান এবং নোয়াখালী পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার তোফায়ের আহাম্মদের ছেলে মো. সৌরভ।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন অন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্ল্যা, নুরুল ইসলাম ফারুকের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী এবং মোহাম্মদ উল্যার ছেলে হারুনুর রশিদ বাবুল।

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন ফয়সাল মাহমুদ রাব্বী ও মামুন। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাফাক্কার হোসেন মো. খায়রুল ওয়ালা।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুর ২টার দিকে আসামি সৌরভ নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাসের পাশের একটি পুকুরে কুকুরকে গোসল করাতে নিয়ে যান। পুকুরে কুকুর গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সৌরভের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সালিসি বৈঠকের কথা ছিল। তবে সালিসে যাওয়ার আগে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রাজীব, ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে ধাওয়া করে মারধর করেন। পরে তিনজন একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

গুলিতে রাজীব ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরাও মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন নাহার বেগম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ওমর নাসির সাজু, ওমর শরীফ সুলতান ও মো. সৌরভকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী, কুদরত উল্যাহ ও হারুনুর রশিদ বাবুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ। তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পীর উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।’

আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যা: দুই সহোদরসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
0:00 0:00
1.0x