ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক পটিয়া

অবৈধ পার্কিংয়ে নাকাল বন্দরবাসী


প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অবৈধ পার্কিংয়ে নাকাল বন্দরবাসী
বড়ফুল থেকে নিমতলা বিশ্বরোড—সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দখল, প্রতিদিনই বাড়ছে জনদুর্ভোগ

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি বড়ফুল থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়ক। বন্দর পূর্ব কলোনি ও পোর্ট কলোনি সংলগ্ন এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে অনেক জায়গায় সড়কের স্বাভাবিক চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও একাধিক যানবাহন পাশাপাশি বা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকায় তৈরি হচ্ছে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘসময়। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।

প্রশ্ন উঠছে—গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন যদি অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না কেন?

সড়ক কি পার্কিংয়ের জায়গা?

একটি জনসড়কের মূল উদ্দেশ্য মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু সড়কের একটি অংশ যদি নিয়মিতভাবে পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই পার্কিংয়ের অনুমতি কোথা থেকে এসেছে?

যদি অনুমতি না থাকে, তাহলে নিয়মিতভাবে যানবাহনগুলো সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পাচ্ছে কীভাবে?

স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান থাকলে একই স্থানে বারবার কেন যানবাহন পার্কিং করা হচ্ছে?

ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ

যানজটের কারণে শুধু সময়ের অপচয়ই হচ্ছে না, ব্যাহত হচ্ছে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অফিসগামী মানুষকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছাতেও অতিরিক্ত সময় লাগছে।

জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও সড়কের এমন প্রতিবন্ধকতা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, সমস্যাটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পার্কিংয়ের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।

দায়িত্ব কার?

বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় এখানে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রয়েছে।

তাই প্রশ্ন হচ্ছে—চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি কীভাবে দেখছে?

সড়কের কোথায় বৈধভাবে পার্কিং করা যাবে, কোথায় পার্কিং নিষিদ্ধ—তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, জরিমানা বা অন্য কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—সেটিও জনসম্মুখে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

সমাধান চান এলাকাবাসী

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে ছবি তোলা নয়, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

- বড়ফুল থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি;

- যেখানে পার্কিং নিষিদ্ধ, সেখানে স্পষ্ট সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন;

- অবৈধভাবে পার্ক করা যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা;

- প্রয়োজন অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ;

- ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা;

- সড়ক দখলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান।

জনসাধারণের প্রশ্ন একটাই—একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন যদি একই ধরনের জনদুর্ভোগ তৈরি হয়, তাহলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ কবে?

কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জরুরি

এই অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন্দর থানা ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সড়কটির কোন অংশে পার্কিং বৈধ, কোথায় নিষিদ্ধ, এ পর্যন্ত কতবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাওয়া জরুরি।

কারণ, জনসড়ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছেমতো পার্কিংয়ের জায়গা হয়ে উঠলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর।

নিরবতা নয়—প্রয়োজন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ।

বড়ফুল থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী।

দৈনিক পটিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অবৈধ পার্কিংয়ে নাকাল বন্দরবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি বড়ফুল থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়ক। বন্দর পূর্ব কলোনি ও পোর্ট কলোনি সংলগ্ন এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অফিসগামী মানুষ এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে অনেক জায়গায় সড়কের স্বাভাবিক চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও একাধিক যানবাহন পাশাপাশি বা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকায় তৈরি হচ্ছে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘসময়। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ।


প্রশ্ন উঠছে—গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে দিনের পর দিন যদি অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না কেন?


সড়ক কি পার্কিংয়ের জায়গা?


একটি জনসড়কের মূল উদ্দেশ্য মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু সড়কের একটি অংশ যদি নিয়মিতভাবে পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই পার্কিংয়ের অনুমতি কোথা থেকে এসেছে?


যদি অনুমতি না থাকে, তাহলে নিয়মিতভাবে যানবাহনগুলো সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পাচ্ছে কীভাবে?


স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান থাকলে একই স্থানে বারবার কেন যানবাহন পার্কিং করা হচ্ছে?


ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ


যানজটের কারণে শুধু সময়ের অপচয়ই হচ্ছে না, ব্যাহত হচ্ছে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অফিসগামী মানুষকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছাতেও অতিরিক্ত সময় লাগছে।


জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও সড়কের এমন প্রতিবন্ধকতা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।


স্থানীয়দের বক্তব্য, সমস্যাটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পার্কিংয়ের কারণে যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি হলেও এর স্থায়ী সমাধান হয়নি।


দায়িত্ব কার?


বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়ায় এখানে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রয়েছে।


তাই প্রশ্ন হচ্ছে—চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি কীভাবে দেখছে?


সড়কের কোথায় বৈধভাবে পার্কিং করা যাবে, কোথায় পার্কিং নিষিদ্ধ—তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, জরিমানা বা অন্য কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—সেটিও জনসম্মুখে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।


সমাধান চান এলাকাবাসী


স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে ছবি তোলা নয়, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।


তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—


- বড়ফুল থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি;

- যেখানে পার্কিং নিষিদ্ধ, সেখানে স্পষ্ট সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন;

- অবৈধভাবে পার্ক করা যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা;

- প্রয়োজন অনুযায়ী পার্কিং ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ;

- ব্যস্ত সময়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা;

- সড়ক দখলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান।


জনসাধারণের প্রশ্ন একটাই—একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন যদি একই ধরনের জনদুর্ভোগ তৈরি হয়, তাহলে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ কবে?


কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জরুরি


এই অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন্দর থানা ও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সড়কটির কোন অংশে পার্কিং বৈধ, কোথায় নিষিদ্ধ, এ পর্যন্ত কতবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চাওয়া জরুরি।


কারণ, জনসড়ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছেমতো পার্কিংয়ের জায়গা হয়ে উঠলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের ওপর।


নিরবতা নয়—প্রয়োজন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ।


বড়ফুল থেকে নিমতলা বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কে অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী।


দৈনিক পটিয়া

সম্পাদক ও প্রকাশক: সৌরভ হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক পটিয়া
অবৈধ পার্কিংয়ে নাকাল বন্দরবাসী
0:00 0:00
1.0x